সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় দ্রুত পাসপোর্টের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গায় দ্রুত পাসপোর্টের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গায় দ্রুত পাসপোর্টের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক দালালের বিরুদ্ধে।

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এক দালালের বিরুদ্ধে ২৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী এনামুল হক ভারতে চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট করতে এসে এই প্রতারণার শিকার হন। দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামের এই বাসিন্দা দামুড়হুডার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম নামের এক দালালের কাছে যান। পাসপোর্ট অফিসে ঢোকার আগেই সিরাজুল তার কাছ থেকে কাগজপত্র নেন।

এনামুল হক জানান, সিরাজুল ইসলাম ১২ হাজার টাকায় দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও পাসপোর্ট না পেয়ে যোগাযোগ করলে সিরাজুল ফাইলের সমস্যার কথা বলে আরো ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। এনামুল মোট ২৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

চার মাস অতিক্রান্ত হলেও এনামুল তার পাসপোর্ট পাননি। তিনি আরও জানান, এখন ফোন দিলে সিরাজুল আরো ১০ হাজার টাকা চাইছেন এবং টাকা ফেরত চাইলে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আরেক পাসপোর্ট প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, পাসপোর্ট অফিসের চারপাশে এমন অনেক দালাল সক্রিয় রয়েছে।

এই দালালদের প্রলোভনে পড়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ হয়রানি ও অর্থদণ্ডের শিকার হচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে দালাল চক্রের সদস্য মো: সিরাজুল ইসলাম অর্থ গ্রহণের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি চুয়াডাঙ্গার মূল একজনের মাধ্যমে কাজ করেন।

সিরাজুল দাবি করেন, ফাইলপ্রতি সামান্য টাকা রেখে বাকিটা তাদের হাতে তুলে দেন। প্রয়োজনে সামনাসামনি বসে বিষয়টি মীমাংসা করা যাবে বলেও তিনি জানান। চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম জাকির হোসেন দালাল চক্র প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের সতর্ক অবস্থানের কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, পাসপোর্টের নির্ধারিত সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে আবেদন করলে দালালের কোনো প্রয়োজন হয় না। কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আবেদনকারীদের সতর্ক করছে এবং নোটিশ বোর্ডেও সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। আবেদনকারীরা সচেতন না হলে এসব প্রতারণা রোখা কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, ভুক্তভোগী ও সচেতন সমাজ পাসপোর্ট কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...