জাতীয়

ঢাকায় চার যাত্রী বহনকারী অটোরিকশার নিবন্ধন, প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ

ঢাকায় চার যাত্রী বহনকারী অটোরিকশার নিবন্ধন, প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ
ঢাকায় চার যাত্রী বহনকারী অটোরিকশার নিবন্ধন, প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ
রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়কে সর্বোচ্চ চার যাত্রী বহনকারী অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। ঢাকার প্রধান সড়কে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা নিবন্ধন পাবে না।

রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়কে সর্বোচ্চ চার যাত্রী বহনকারী অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আসবে না। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ রোববার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নীতিমালা প্রণয়নের কাজ একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং হয়ে আসার পরেই এক সপ্তাহের মধ্যে বা যত দ্রুত সম্ভব নীতিমালাটি জারি করা হবে। এর ফলে ই-রিকশাগুলো একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নীতিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা নিবন্ধন দেওয়া হবে না। সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাই এসব নিবন্ধন প্রদান করবে।

ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্ট নিয়েও নীতিমালায় শর্ত থাকবে। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং একপর্যায়ে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। চার্জিং পয়েন্টগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র ই-রিকশা তৈরির কারখানা রয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট হিসাব সরকারের কাছে নেই। নীতিমালার মাধ্যমে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। বুয়েট বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন অনুযায়ী যারা প্রোডাকশন করবে, সেই ফ্যাক্টরিগুলোরও লাইসেন্স নিতে হবে।

ঢাকাতে ই-রিকশা চলাচলের জন্য মোট আটটি জোন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চারটি করে মোট আটটি জোন থাকবে। প্রতিটি অনুমোদিত ই-রিকশার জন্য একটি নির্দিষ্ট জোন এবং আলাদা রঙ থাকবে। একটি জোনের ই-রিকশা যেন অন্য জোনে যেতে না পারে, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।

কোন ই-রিকশা কোন রুটে চলবে, তা সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। এসব ই-রিকশায় জিও-ফেন্সিং ব্যবস্থাও থাকবে। রাজধানীর প্রধান সড়কে ই-রিকশা চলাচলের সুযোগ থাকবে না, শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে জোনভিত্তিক এসব যান চলাচল করতে পারবে।

ঢাকা শহরে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যাত্রী ধারণক্ষমতা দুই ও চারজন নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধন পাবে না।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...