অর্থনীতি

ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান প্রবেশাধিকারের দাবি

ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান প্রবেশাধিকারের দাবি
ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান প্রবেশাধিকারের দাবি
মঙ্গলবার এক নীতি সংলাপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অধিকারকর্মীরা ডিজিটাল প্রবেশগম্যতাকে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি নীতি সংলাপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অধিকারকর্মীরা ডিজিটাল প্রবেশগম্যতাকে একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবার জন্য ডিজিটাল সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা কেবল সামাজিক ন্যায়বিচার বা মানবাধিকারের বিষয় নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগও। ডিজিটাল প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও বেশি মানুষকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

ডিডিআই সাউথ এশিয়ার সহায়তায় সংযোগ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ‘ডিজিটাল অধিকার, গণতন্ত্র, এবং ই-গভর্নেন্স-প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক এই নীতি সংলাপের আয়োজন করে। বক্তারা উল্লেখ করেন, মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অংশ। তাদের প্রশিক্ষিত করা হলে এবং ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার থাকলে তারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন।

সংলাপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যথাযথ ডিজিটাল ডিভাইস ও প্রশিক্ষণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল সেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়, উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নতি ঘটে।

ডিজিটাল সেবায় সমান প্রবেশাধিকার উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, বৈষম্য কমায় এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। বক্তারা সতর্ক করেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষ কর্মশক্তিতে পরিণত করা না হলে তাদের জীবন ও জীবিকা বাধাগ্রস্ত হবে। এটি দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকেও ব্যাহত করবে।

তারা ডিজিটাল সেবা নকশা ও পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থবহ সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন। সবার জন্য ডিজিটাল সেবায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন এবং এ উদ্দেশ্য অর্জনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ অবস্থান। তবে ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটির ক্ষেত্রে ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮তম।

একটি দ্বিভাষিক জরিপের ফলাফলও সংলাপে উপস্থাপন করা হয়। ১৬৭ জন যাচাইকৃত প্রতিবন্ধী উত্তরদাতার ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ৯৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ প্রতিদিন এটি ব্যবহার করেন এবং ৭৪ শতাংশ সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।

জরিপে আরও দেখা যায়, ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সহায়ক প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা কঠিন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী উত্তরদাতাদের মধ্যে এই হার বেড়ে ৬৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এছাড়া ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা বিভিন্ন যাচাইকরণ ধাপের কারণে বাধার সম্মুখীন হন।

আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে, ৮৬ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মোবাইল বা অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করেন। তবে তাদের ৪৮ শতাংশ সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে এককালীন পাসওয়ার্ড ব্যবহারে ৪১ শতাংশ, স্ক্রিন-রিডারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতায় ৪০ শতাংশ এবং বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণে ২১ শতাংশ সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সংযোগ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জাভেদ জামাল এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এটুআইয়ের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট-অ্যাক্সেসিবিলিটি ভাস্কর ভট্টাচার্য এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলামসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বেশ কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...