ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ব্যবসায়ীদের প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এফবিসিসিআই বলেছে, বাজারে পণ্যের দাম এমনিতেই বেশি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে নিত্যপণ্যের মজুত, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এই আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, বেতন বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সরকারি বেতন স্কেল ঘোষণার পরপরই এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ এমনিতেই কষ্টে আছে।
মো. ফজলুল হক আরও উল্লেখ করেন, কিছু মানুষের বেতন বাড়লেও, সরকারি চাকরি করেন না এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি। তিনি ব্যবসায়ীদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ব্যবসায়ীরা যেন বেতন বৃদ্ধির সুযোগে অতিরিক্ত মুনাফা, মূল্যবৃদ্ধি বা সিন্ডিকেট না করেন, সেই বার্তা সভা থেকে দেওয়া হয়।
এই সভায় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা দেশের ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অবস্থা তুলে ধরেন। এসব কোম্পানি উৎপাদনের পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানি করে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে।
সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো মূল্যে কারখানাগুলো সচল রাখার দাবি জানানো হয়। মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা বলেন, এক সময় দেশে ৩০-৪০টি ভোগ্যপণ্য কোম্পানি ছিল, এখন মাত্র চার থেকে পাঁচটি টিকে আছে।



মতামত (0)