খেলাধুলা

এজবাস্টন টেস্টে ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের ১৩৩ রান

এজবাস্টন টেস্টে ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের ১৩৩ রান
এজবাস্টন টেস্টে ব্যাটিং ধসে পাকিস্তানের ১৩৩ রান
কোচ, দল ও ভেন্যু বদলে ফেললেও এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে ব্যর্থতার একই বৃত্তে আটকে রইল পাকিস্তান। ইংলিশ পেসারদের তোপে তাদের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।

গতকাল এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরু হওয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। কোচ, দল এবং ভেন্যু পরিবর্তন করেও দলটির ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র একই রয়ে গেছে। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর তৃতীয় ও শেষ টেস্টেও তারা ব্যাট হাতে পুরনো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি করেছে।

ইংল্যান্ডের পেসারদের দাপটে বাবর আজমের দল ৩৩.৫ ওভারেই গুটিয়ে যায়। জবাবে ম্যাচের প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে, যা তাদের ২৩ রানের লিড এনে দেয়। হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনে।

প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদসহ দুই কোচ এবং সাতজন খেলোয়াড়কে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। নতুন করে পাঁচজন খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এজবাস্টন টেস্টে এই পরিবর্তিত দল থেকে একজন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান এবং দুজন পেসারসহ মোট তিনজনের টেস্ট অভিষেক হয়।

এত পরিবর্তন সত্ত্বেও পাকিস্তানের পারফরম্যান্সে কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। ব্যাট বা বল হাতে তারা কোনো দাপট দেখাতে পারেনি। টস জিতে ইংল্যান্ড পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় এবং শুরু থেকেই তাদের পেস আক্রমণ চাপ সৃষ্টি করে।

পাকিস্তান মাত্র ৪৮ রানেই ৫ উইকেট হারায়। দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নতুন লজ্জার রেকর্ড। এর আগে ১১ বার এমন ঘটনা ঘটলেও, ম্যাচের প্রথম ইনিংসে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে না পারার ঘটনা এটিই প্রথম।

পুরো ইনিংসে পাকিস্তানের ১১ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে আটজনই ১০ রানের নিচে ফিরে গেছেন। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টের পর এই প্রথম পাকিস্তান ৫০ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের অর্ধেক উইকেট হারাল। প্রায় দেড় বছর পর টেস্ট দলে ফিরে আসা সাইম আইয়ুবও রান করতে পারেননি।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ওলি রবিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে তিনি কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। এই ব্যাটিং ধসের মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন সৌদ শাকিল।

ছয় নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মক মেজাজে ৪৭ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। জশ টাংয়ের বলে বোল্ড হয়ে তার বিদায়ের পর শেষ দিকে মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী কিছুটা লড়াই করেন। দশম উইকেটে তাদের ২৬ রানের জুটিই পাকিস্তানের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি হিসেবে রেকর্ড হয়।

এর আগে বাবর আজম ও সৌদ শাকিলের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ২২ রান এসেছিল। এই সামান্য প্রতিরোধেই পাকিস্তান ১৩৩ রানের সংগ্রহ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন জশ টাং, ৪২ রান দিয়ে তিনি ৪ উইকেট নেন।

ওলি রবিনসন এবং জোফরা আর্চার প্রত্যেকে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। তাদের পেস আক্রমণের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্ব আবারও প্রকটভাবে ফুটে ওঠে। পাকিস্তানকে ১৩৩ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ইংল্যান্ডের শুরুটাও অবশ্য স্বস্তিদায়ক ছিল না।

মাত্র ৩৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা চাপে পড়ে। তবে এরপর ম্যাচের চিত্র বদলে দেন এমিলিও গে ও হ্যারি ব্রুক। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন মিলে ১০৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।

অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর বলে বোল্ড হওয়ার আগে গে করেন ৬০ রান। তবে হ্যারি ব্রুক দিন শেষ করেন ৫২ রানে অপরাজিত থেকে। তার সাথে ক্রিজে আছেন ড্যান লরেন্স। প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৬ রান।

পাকিস্তানের জন্য ১৩৩ রানে অলআউট হওয়া শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি তাদের ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতারই একটি অংশ। এ নিয়ে টানা পঞ্চম ইনিংসে দলটি ২০০ রানের নিচে থামল। এর মধ্যে টানা তিন ইনিংসে তারা ১৫০ রানও অতিক্রম করতে পারেনি। প্রথম দুই টেস্টের ব্যর্থতার পর ব্যাপক পরিবর্তন এনেও পাকিস্তান একই বৃত্তে আটকে রইল।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...