খেলাধুলাসাংবাদিকের ব্যতিক্রমী উপহার: মরিনিওকে ইন্টারের স্মৃতিমাখা পানি ছিটানোর যন্ত্র
সাংবাদিকের ব্যতিক্রমী উপহার: মরিনিওকে ইন্টারের স্মৃতিমাখা পানি ছিটানোর যন্ত্র
চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টারের মুখোমুখি হওয়ার আগে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিওকে তার অতীত জয়ের স্মৃতি বিজড়িত ইন্টার মিলান রঙের একটি ওয়াটার স্প্রিংকলার উপহার দিয়েছেন এক ইতালীয় সাংবাদিক।
রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিও চ্যাম্পিয়নস লিগে তার সাবেক ক্লাব ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হচ্ছেন। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগিজ কোচ জানান, এটি তার জন্য সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়। তিনি মনে করেন, ইন্টার মিলান ম্যাচের আগে ও পরে তাকে বন্ধু ভাবলেও ম্যাচের সময় এমনটা ভাববে না।
আজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের মধ্যে নতুন মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অতীত বন্ধুত্ব ভুলে ৯০ মিনিটের জন্য শত্রুশিবিরে পরিণত হওয়া স্বাভাবিক।
তবে ইতালীয় ফুটবলের খ্যাতিমান সাংবাদিক তানক্রেদি পালমেরির ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। মাদ্রিদে গতকাল সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি মরিনিওকে একটি ব্যতিক্রমী উপহার দিয়েছেন। সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করে তিনি ১৬ বছর আগের আবেগকে প্রাধান্য দেন।
পালমেরি মরিনিওকে ইন্টার মিলানের রঙে রাঙানো একটি ওয়াটার স্প্রিংকলার (পানি ছিটানোর যন্ত্র) উপহার দেন। এই উপহারের পেছনের পটভূমি জানতে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের ফিরতি লেগের ঘটনায় ফিরে যেতে হবে। সেবার বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে বার্সা ১-০ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে মরিনিওর ইন্টারের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
সেই ম্যাচ শেষে মরিনিও তর্জনী তুলে ক্যাম্প ন্যুর মাঠে দৌড়ে জয় উদযাপন করেন। তখন ক্যাম্প ন্যুতে পানি ছিটানোর যন্ত্র ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মরিনিও তার মধ্য ভিজেই সেই পাগলাটে দৌড়ে উদযাপন করেন। ইতালিয়ান ক্লাবটির সমর্থকদের কাছে সেই স্মৃতি অমূল্য। মরিনিওর হাত ধরে সেবার ইন্টার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং ইতালিয়ান ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে একমাত্র ‘ট্রেবল’জয়ী কোচ হিসেবে তার নাম ইতিহাসে লেখা হয়।
চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর মরিনিও ইন্টার ছেড়ে রিয়ালের দায়িত্ব নেন। ১৬ বছর পর মরিনিও যখন রিয়ালে তার দ্বিতীয় মেয়াদে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান শুরু করছেন, তখন তার প্রথম প্রতিপক্ষ সেই ইন্টার। তানক্রেদি পালমেরি এই মুহূর্তটিকেই মরিনিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর উপলক্ষ হিসেবে বেছে নেন।
রেডিও মার্কার অনুষ্ঠান ‘ওত্রা রন্দা’য় পালমেরি তার উপহার দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তার ভাষায়, “পরিকল্পনা করেই কাজটা করা। আমার ঘরে কোনো ওয়াটার স্প্রিংকলার ছিল না, তাই আগে সেটা জোগাড় করতে হয়েছে। এরপর ইন্টার মিলানের জার্সির আদলে সেখানে কালো ও নীল রঙের দুটি স্ট্রাইপ আঁকতে হয়েছে।” পালমেরি স্বীকার করেন, সংবাদ সম্মেলনের বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে তিনি সীমা কিছুটা লঙ্ঘন করেছেন।
তবে এই বিষয়ে পালমেরির কোনো অনুশোচনা নেই। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ইন্টারকে মরিনিওর মুখোমুখি দেখার জন্য তিনি ১৬ বছর অপেক্ষা করেছেন। এই সুযোগ পেয়ে পালমেরি বলেন, “এটি ছিল একধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শুভকামনা।”
পালমেরি শুধু শ্রদ্ধা জানাতেই এই উপহার দেননি। স্পোর্তইতালিয়ার এই সাংবাদিক জানান, “সেই রাতে মরিনিও যা করেছিলেন, তা আমার এক আত্মীয়ের মুখে একচিলতে হাসি ফুটিয়েছিল। একজন বাবা তাঁর জীবনে চরমতম কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।” সেই মানুষটি তার অত্যন্ত কাছের উল্লেখ করে পালমেরি বলেন, জীবনের চরম এক দুঃসময়ে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ইন্টারের সেই ঐতিহাসিক জয় অন্তত এক মুহূর্তের জন্য হলেও সেই মানুষের মুখে হারিয়ে যাওয়া হাসি ফিরিয়ে এনেছিল।
পালমেরি বলেন, “আমি সব সময়ই ভাবতাম, সুযোগ পেলেই জোসেকে এভাবে শ্রদ্ধা জানাব।” তবে মরিনিওর কাছে এই উপহারের পেছনের মূল রহস্য বিস্তারিত খুলে বলার সুযোগ পাননি বলে তিনি স্বীকার করেন। মার্কার সেই অনুষ্ঠানে পালমেরি বলেন, “যার সবই আছে, যিনি চাইলেই যেকোনো কিছু কিনে নিতে পারেন, তেমন একজন মানুষকে আপনি কী উপহার দেবেন?”
সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ে আসে ওই স্প্রিংকলার। পালমেরির ভাষায়, “হঠাৎ করেই স্প্রিংকলারের কথা মাথায় আসে, তারপর তো ঘটনাটি ঘটেই গেল।”
মতামত (0)