চাকরি

যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি

যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি
যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। যুব ফ্রন্ট প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।

গতকাল সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওএমআর শিট ফিরিয়ে নিয়ে স্থগিতের ঘোষণা আসে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা প্রবেশপত্র উঁচিয়ে ধরে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিরপুর, নীলক্ষেত ও মতিঝিলসহ অন্যান্য এলাকাতেও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের জন্য প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর গতকাল সকাল ১১টায় পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অসংখ্য পরীক্ষার্থী ঢাকায় এসে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পরীক্ষা বাতিলের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায়ভার কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট এই ঘটনায় তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে। পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে ক্ষতিগ্রস্ত বেকার পরীক্ষার্থীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও জানানো হয়।

এছাড়াও, যুব ফ্রন্ট চাকরিপ্রার্থীদের রাজধানীমুখী হওয়া ও ক্রমাগত হয়রানি বন্ধ করতে ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্র বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বেকার তরুণদের দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার অবসানে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি আগামী ১৬ অক্টোবর পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি করেছে। তারা দায়ীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে।

আল্টিমেটাম দিয়ে কিছু চাকরিপ্রার্থী আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, এবং প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কথা রয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...