বিনোদন

কম বাজেটেই বক্স অফিসে ‘হনুমান অংশ’-এর বিশাল সাফল্য

কম বাজেটেই বক্স অফিসে ‘হনুমান অংশ’-এর বিশাল সাফল্য
কম বাজেটেই বক্স অফিসে ‘হনুমান অংশ’-এর বিশাল সাফল্য
মাত্র দুই কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত 'হনুমান অংশ' বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৮০ কোটি রুপি আয় করেছে, যা চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

বলিউডে বড় তারকা বা ব্যাপক প্রচারণা ছাড়াই বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে আধ্যাত্মিক ড্রামা ‘হনুমান অংশ’। মাত্র দুই কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তির পর শুরুটা সাধারণ ছিল। প্রথম দুই সপ্তাহে বক্স অফিসে তেমন সাড়া না পেলেও দর্শকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসায় ধীরে ধীরে গতি পায়। সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত ‘স্লিপার হিট’ হিসেবে বড় সাফল্য লাভ করে।

সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৭৯ কোটি ৮০ লাখ রুপি আয় করেছে। এর মধ্যে ভারতে মোট আয় ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ রুপি। মাত্র দুই কোটি রুপির বাজেটে এমন ব্যবসা চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

‘হনুমান অংশ’-এর এই জনপ্রিয়তার প্রভাব পড়েছে বড় বাজেটের তারকানির্ভর সিনেমার ওপরও। সদ্য মুক্তি পাওয়া অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলী খান অভিনীত ‘হাইওয়ান’ এই সিনেমার দাপটে কিছুটা চাপে পড়েছে বলে আলোচনা চলছে।

সিনেমাটির সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হলো মাউথ পাবলিসিটি। মুক্তির শুরুতে প্রচারণার ঘাটতি ছিল। তবে যারা সিনেমাটি দেখেছেন, তাদের প্রশংসা অন্য দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে সিনেমাটি পরিচিতি লাভ করে।

তবে শুধু প্রচারণা নয়, সিনেমার আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু এবং গল্পের দর্শনও দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র ঈশ্বরভক্তির গল্প নয়। এটি অহং, কামনা ও আত্মকেন্দ্রিকতার ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসমর্পণের শিক্ষা তুলে ধরে।

নীম করোলি বাবার জীবন ও দর্শনের মধ্য দিয়ে প্রতিকূলতা বা অপমানের প্রতিশোধ না নিয়ে কীভাবে আত্মসমর্পণের পথে এগোনো যায়, সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে। এই দার্শনিক দিকটি সিনেমাটিকে সাধারণ ধর্মীয় গল্পের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গেছে। প্রার্থনা বা ঈশ্বরের কাছে মানুষের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও সিনেমাটি দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করে।

নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মানবিকতা, ভালোবাসা ও আত্মিক শান্তির জায়গা থেকে অনেকে গল্পটির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন। হিন্দুধর্মে হনুমান শক্তি, আনুগত্য ও ভক্তির প্রতীক। নীম করোলি বাবার হনুমানের প্রতি গভীর ভক্তি তার আধ্যাত্মিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।

সিনেমায় সেই ভক্তিকে কোনো পার্থিব চাওয়া-পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত না করে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই ব্যাখ্যাই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। দর্শকের কাছে ভক্তি এখানে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিজের অহংকে অতিক্রম করে শান্তি খোঁজার একটি পথ।

‘হনুমান অংশ’-এর আরেকটি চমক এর নির্মাণ ব্যয়। মাত্র দুই কোটি রুপির বাজেটে নির্মিত হলেও সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন দর্শকদের হতাশ করেনি। সীমিত বাজেটের মধ্যেও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস ও দৃশ্যায়ন ভালো দর্শক-অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পেরেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নীম করোলি মহারাজের চরিত্রে শোভিনব সত্যের অভিনয়। চরিত্রটির আধ্যাত্মিক আবহকে তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় তুলে ধরে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন। সমালোচকরা মনে করেন, সিনেমার বাজেট কম হলেও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস দর্শকদের মন জুড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।

‘হনুমান অংশ’ সিনেমাটি ভারতের আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক নীম করোলি বাবার জীবন অনুসারে তৈরি হয়েছে। তার আসল নাম ছিল লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মা। তিনি একজন অনন্য সাধারণ সাধক এবং বজরংবলী বা হনুমান দেবতার পরম ভক্ত ছিলেন।

১৯০০ সালের দিকে উত্তর প্রদেশের আকবরপুর গ্রামে এক ধনাঢ্য ব্রাহ্মণ পরিবারে এই সাধকের জন্ম হয়। অনুসারীদের কাছে তিনি ‘মহারাজ জি’ এবং উত্তর ভারতে ‘মিরাকল বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন।

নীম করোলি বাবাকে নিয়ে একটি চমকপ্রদ ঘটনা প্রচলিত আছে। টিকিট না থাকার কারণে লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতেই তার অলৌকিক প্রভাবে ট্রেনটি আর চলেনি।

পরে রেলকর্তৃপক্ষ তাকে সসম্মানে ট্রেনে তুলে নিলে ট্রেনটি আবার চালু হয়। শোনা যায়, এরপর সেখানে একটি স্টেশন তৈরির শর্ত রেখেছিলেন তিনি। ঘটনাটি নীম করোলি নামের একটি গ্রামে ঘটায় তার নাম রাখা হয় নীম করোলি বাবা।

ষাটের ও সত্তরের দশকে বহু আমেরিকান ও পশ্চিমা নাগরিক তার আধ্যাত্মিক শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। অ্যাপলের স্টিভ জবস এবং ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গের মতো ব্যক্তিরাও তার অনুসারী ছিলেন বলে শোনা যায়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...