বিনোদন

কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬: ১৬ দেশের অংশগ্রহণে সৌন্দর্যশিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শুরু

কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬: ১৬ দেশের অংশগ্রহণে সৌন্দর্যশিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শুরু
কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬: ১৬ দেশের অংশগ্রহণে সৌন্দর্যশিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শুরু
বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান সৌন্দর্যশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’, যেখানে ১৬টি দেশ অংশ নিচ্ছে।

বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান সৌন্দর্যশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’। কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের এমন প্রদর্শনী এটি দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সৌন্দর্য এখন শুধু সাজসজ্জার অনুষঙ্গ নয়; এটি দেশের দ্রুত বিকাশমান এক শিল্প খাত। স্কিনকেয়ার থেকে হেয়ার কেয়ার, প্রসাধনী থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা পর্যন্ত এই বাজারের পরিধি বাড়ছে। জীবনযাপন ও ভোক্তার চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে এই খাত প্রসারিত হচ্ছে।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই সৌন্দর্যশিল্পের এই আয়োজন ঘিরে নানা বয়সী দর্শনার্থীর ভিড় দেখা যায়। সকাল গড়াতেই দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ড, উদ্যোক্তা, প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারীদের সরব উপস্থিতিতে পুরো প্রদর্শনী প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কোথাও নতুন স্কিনকেয়ার পণ্যের প্রদর্শন, কোথাও মেকআপ ও হেয়ার কেয়ারের নানা সম্ভার দেখা যায়।

কয়েকটি স্টলে পণ্যের সরাসরি ব্যবহার দেখানো হয় এবং বিশেষজ্ঞরা দর্শনার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কসমেটিকা ঢাকার আকর্ষণ শুধু স্টলে সাজানো পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দর্শনার্থীদের জন্য লাইভ ডেমো, বিউটি কনসালটেশন ও স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ থাকছে।

কোন পণ্যের ব্যবহার কীভাবে, কোনটি কার জন্য উপযোগী—এসব বিষয়ে দর্শনার্থীরা সরাসরি তথ্য পাচ্ছেন। অন্যদিকে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, অংশীদারত্ব ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

কসমেটিকা ঢাকায় সৌন্দর্যচর্চার পুরো পরিসর এক ছাদের নিচে আনা হয়েছে। স্কিনকেয়ার, হেয়ার কেয়ার, মেকআপ, ফ্র্যাগরেন্স, গ্রুমিং ও হাইজিন পণ্যের পাশাপাশি উৎপাদন প্রযুক্তি, প্যাকেজিং, সরবরাহব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, চীন, হংকং, জাপান, ভারতসহ ১৬টি দেশের ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, খুচরা বিক্রেতা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিয়েছেন।

এই প্রদর্শনী শুধু নতুন পণ্য দেখার জায়গা নয়, এটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরিরও সুযোগ করে দিচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, বাংলাদেশের এই বড় বাজারকে উৎপাদন ও রপ্তানির শক্তিতে রূপ দেওয়া সম্ভব। তিনি তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, কমপ্লায়েন্স অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও বৈশ্বিক ক্রেতা–সম্পর্ক কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কসমেটিকস খাতেও কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, ফর্মুলেশন, বিশেষায়িত প্যাকেজিং, মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি ও সার্টিফিকেশনের সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে সার্টিফায়েড বোটানিক্যাল ও হারবাল উপাদানের একটি শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। এটি শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণ করবে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

তিনি শুধু পণ্য তৈরি নয়, দেশের ভেতরেই ফর্মুলেশন, গবেষণা ও ব্র্যান্ডিংয়ের সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের দৃষ্টিতে এই শিল্পের পরবর্তী ধাপ হলো “মেইড ইন বাংলাদেশ” থেকে “ফরমুলেটেড, ডেভেলপমেন্ট এবং ব্র্যান্ডিং ইন বাংলাদেশ”–এর দিকে এগিয়ে যাওয়া। এর জন্য বিনিয়োগ সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, টেকসই প্যাকেজিং এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, নিরাপদ কাঁচামাল ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি তৈরি করা গেলে এই খাত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কূটনীতির নতুন শক্তিশালী ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...