রাজনীতি

নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামা প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকাশ করে সেলিম উদ্দিন

নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামা প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকাশ করে সেলিম উদ্দিন
নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামা প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকাশ করে সেলিম উদ্দিন
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামা সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতা প্রকাশ করে। তিনি দ্রুত সিটি নির্বাচন ও স্বচ্ছ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি ও দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, নাগরিকদের যখন নিজেদের হাতে ঝাড়ু নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমাদেরকে কেন শহরের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামতে হলো? এটা কি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়?"

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রতিবছর একই সমস্যা বারবার ফিরে আসে। কাগজে-কলমে অনেক কিছু হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। এর ফলে নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল ২৭ আগস্ট প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে পাঁচটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব দাবি করেন। এর মধ্যে ছিল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাজেট, ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য অপসারণের পারফরম্যান্স, অভিযোগ নিষ্পত্তির হার এবং প্রতিবছর একই সংকট ফিরে আসার কারণ।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হলেও এখন আর কোনো ‘মেকানিজম’ কাজে দেবে না। তিনি দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান এবং বলেন, "দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে হবে, এটাই আমাদের পরিষ্কার দাবি। সবার আগে সিটি নির্বাচন চাই।"

তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো ধরনের ব্যর্থতা কিংবা কারচুপির চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। স্থানীয় নির্বাচনে সরাসরি মিডিয়া কাভারেজের মাধ্যমে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবিও তিনি জানান।

জাতীয় নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন কথা বলা হলেও বর্তমান ক্ষমতাসীনরা তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকাবাসী এর আগে এমন লোডশেডিং দেখেনি।

‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তুলতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কোনো রাজনৈতিক পয়েন্ট স্কোর করার কর্মসূচি নয়; বরং নাগরিক দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্ন থেকেই তারা মাঠে নেমেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েকদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশ, ড্রেনের মুখ ও খালের ধারে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের বাজেট, জনবল, যানবাহন ও পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থাকা সত্ত্বেও এসব স্থানে দিনের পর দিন বর্জ্য জমে থাকে কেন, সে প্রশ্নও তিনি তোলেন।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার গঠন করেছে এবং একইভাবে তারা ‘ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন’ গঠন করবেন। তিনি বলেন, এটি কেবল কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই তারা করবেন। জনগণের সামনে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনার নমুনা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিন ধরনের ময়লা আলাদাভাবে রাখার জন্য বিন স্থাপন করা হয়েছে। সংগৃহীত বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে কলম ও খাতা তৈরি করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, তারা যদি ঢাকা সিটির দায়িত্ব পান, তাহলে সরকার পুরো বিশ্বে তা নিয়ে গর্ব করবে। তিনি দাবি করেন, ঢাকা শহরে কোনো বেকার যুবক থাকবে না।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন দেখতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়ে দেখুক। তিনি আরও দাবি করেন, দায়িত্ব পেলে এমন উন্নয়ন করা হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে ঢাকাবাসীর উদ্দেশ্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, "শুধু দেখার জন্য হলেও জামায়াতকে পাঁচ বছর সিটির দায়িত্ব দিন। সরকার দেশ চালাক, আমরা ঢাকা সিটিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ নগরীতে গড়ে তুলি।" তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে নতুন কোনো প্রযুক্তির আবিষ্কার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। জনগণের টাকার হিসাব জনগণের জানার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মাদ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...