রাজনীতিগণঅধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের আন্দোলন অব্যাহত: ড. আযাদ
গণঅধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের আন্দোলন অব্যাহত: ড. আযাদ
ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও রাজপথে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং একদিন বাংলাদেশ জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে দলটি সংসদ ও রাজপথে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক দল হিসেবে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার।
ড. আযাদ আরও বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থের পরিপন্থী কোনো বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী অতীতে আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জনগণের দাবি পূরণে দলটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবি আদায় করা হবে।
তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ একদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। জনগণের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ব্যাপক সমর্থন দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেকেই দলটির বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে। তবে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তই জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি-সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. আযাদ জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার মাধ্যমে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এই শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা অন্যদের মতো অস্ত্রের লড়াই করেন না এবং ভবিষ্যতেও করবেন না; তাদের জ্ঞানের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।
অ্যাডভোকেট আকন্দ আরও বলেন, কিছু মানুষ না বুঝেই নেতার পেছনে ছোটে এবং নেতার কথায় অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাদের জ্ঞানের পরিধি সীমিত থাকে। তাই জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে এবং বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।
তরুণ সমাজ প্রসঙ্গে মতিউর রহমান আকন্দ জানান, নতুন প্রজন্ম যাতে ইসলামমুখী হতে না পারে, সে জন্য ইসলামবিদ্বেষীরা ষড়যন্ত্র করছে। তবে দেশের তরুণ সমাজ ইসলাম ও দেশপ্রেমের প্রতি অনুরাগী। তাদের ইসলামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইউটিউবে কোনো ব্যক্তির ছবি বা বক্তব্য দেখানো হলেও চিন্তা করতে হবে, ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে কতজন তা দেখছেন। তার দাবি, রাতের আঁধারে ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেশের লাখ লাখ তরুণকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চীন বিষয়টি বুঝতে পেরে ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে তাদের নৈতিক ও আদর্শিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাশিবিরে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান এবং মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসানের সঞ্চালনায় এই শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদুল ইসলাম।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শেখ শরিফ উদ্দিন আহমদ, সৈয়দ সিরাজুল হক ও মো. শহিদুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন এবং সহকারী অফিস সেক্রেটারি মো. মুজিবুর রহমানসহ অনেকে।
মতামত (0)