আন্তর্জাতিক

নেপালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি দূতদের ব্রিফিং, নিহত ১,২৫৭ জন

নেপালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি দূতদের ব্রিফিং, নিহত ১,২৫৭ জন
নেপালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি দূতদের ব্রিফিং, নিহত ১,২৫৭ জন
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বিদেশি দূতদের দেশটির ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিং করেছেন, যেখানে ১,২৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার ও ৪,২০০ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানানো হয়।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সম্প্রতি দেশ‌টির ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি দূতদের একটি বিস্তারিত ব্রিফিং করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানও অংশগ্রহণ করেন। ব্রিফিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভয়াবহ বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নেপালের আহ্বান তুলে ধরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে জানান, বন্যার পর এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও, এখনো ৪ হাজার ২০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও মৃতদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম পুরোদমে চলছে এবং এর হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ ও ঝুঁকির বোঝা নেপালকে অসমভাবে বহন করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য নেপালের দায় সবচেয়ে কম হলেও এর ভয়াবহ পরিণতি নেপালকে ভোগ করতে হচ্ছে।

শিশির খানাল এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নেপাল কোনো দাতব্য সহায়তা হিসেবে নয়, বরং নেপালের ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই সহায়তা প্রত্যাশা করছে। এটি নেপালের ন্যায্য অধিকার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অভিন্ন দায়িত্বের বিষয়ে নেপালের অবস্থানের প্রতি তার দেশের পূর্ণ সমর্থন জানান। এই সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোর জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশ্বের প্রধান দূষণকারী দেশগুলোর উচিত এই দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। এটি বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নেপালের বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার শান্তির জন্য দোয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। এটি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার প্রকাশ।

এছাড়াও, রাষ্ট্রদূত দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এই সহায়তা নেপালের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...