ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আগামী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, কিন্তু জনমত জরিপগুলোতে তাঁর দল লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা হয় থমকে আছে, না হয় ক্রমেই কমছে। অন্যদিকে, মূল বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে বলে জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অতীতে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমাতে যে ভয় দেখানোর কৌশল সফলভাবে ব্যবহার করতেন, তা এবার ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারছে না। নতুন কয়েকটি ডানপন্থী দলের আবির্ভাব লিকুদ পার্টির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকে ধস নামানোর হুমকি তৈরি করেছে। এই দলগুলো নেতানিয়াহুর ভোট কেটে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্টরা সতর্ক করে বলেছেন যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এই নিশ্চিত বিপদ থেকে বাঁচতে নেতানিয়াহু সহিংসতায় উসকানি দিতে পারেন। তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করতে পারেন অথবা ভোট পরিচালনাকারী কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করতে পারেন। শেষ রক্ষা না হলে তিনি 'ভোট চুরির' অভিযোগ তুলে পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকেই ভন্ডুল করে দিতে পারেন বলে তাঁদের আশঙ্কা।
তবে এখন পর্যন্ত এই হুমকিগুলোর কোনোটিই বাস্তবে রূপ নেয়নি। গত ৭ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জমা পড়ার পর থেকে নির্বাচনের প্রচারণা পুরোদমে শুরু হয়েছে।
নেতানিয়াহু সম্ভবত ইতিমধ্যেই অন্য একটি কৌশল সাজাতে শুরু করেছেন। এই কৌশলটি হলো কৃত্রিমভাবে এক বা একাধিক নিরাপত্তাসংকট তৈরি করা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাঁর ধূলিসাৎ হওয়া 'মিস্টার সিকিউরিটি' ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা।
এই কৌশলের মাধ্যমে যেসব মাঝারি ধারার ভোটার লিকুদ পার্টি ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের মনে দ্বিধা তৈরি করা। তিনি এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান যেখানে ভোটাররা ভাবতে বাধ্য হবেন যে নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের মতো অনভিজ্ঞ হাতে দেশের নিরাপত্তা তুলে দেওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এর জন্য তাঁকে পুরোপুরি বড় কোনো যুদ্ধে জড়াতে হবে না।
তিনি একটি ছোটখাটো সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটিয়ে পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি সহজেই দাবি করতে পারবেন যে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
গত ১৮ আগস্টের ঘটনায় হয়তো তারই এক ঝলক দেখা গেছে। ওইদিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়। নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, সিরিয়াতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে তুরস্ককে সতর্ক করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।



মতামত (0)