জাতীয়

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে বিএফএসএ'র কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা খাদ্যমন্ত্রীর

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে বিএফএসএ'র কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা খাদ্যমন্ত্রীর
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে বিএফএসএ'র কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা খাদ্যমন্ত্রীর
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তিনি সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ খাদ্য একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারে।

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে তারা কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করছে তার ওপর। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা করে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।

প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাবার ও পানীয় সম্পর্কে মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে যে আটটি মোবাইল ল্যাব রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় মোবাইল ল্যাবের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে দ্রুত খাদ্যপণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে ল্যাবরেটরি পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ব্যয় কমবে।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি মানসম্মত খাদ্য পরীক্ষাগার গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নির্ধারণ, প্রকল্প প্রণয়ন, অর্থায়নসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ল্যাবরেটরিতে খাদ্যপণ্যের পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য খাদ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক। পর্যায়ক্রমে এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মন্ত্রী হিসেবে নয়, সহকর্মী হিসেবে দেখতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, সবাই মিলে কাজ করার লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। দেশের মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়াও এই লক্ষ্যের অংশ।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মিনি ল্যাব (মোবাইল ভ্যান) ও ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। এসময় সংশ্লিষ্ট ল্যাব অপারেটররা মন্ত্রীকে মিনি ল্যাব ও ল্যাবরেটরির কার্যক্রম এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...