জাতীয়

নির্যাতনে নারীর মৃত্যু: ছবি পাঠিয়ে বলেছিলেন, 'ও আমাকে আজও মারছে'

নির্যাতনে নারীর মৃত্যু: ছবি পাঠিয়ে বলেছিলেন, 'ও আমাকে আজও মারছে'
নির্যাতনে নারীর মৃত্যু: ছবি পাঠিয়ে বলেছিলেন, 'ও আমাকে আজও মারছে'
নির্যাতনে আল মাইদা আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর দুদিন আগে মারধরের ছবি খালাতো বোনকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। স্বামী পালিয়ে গেলেও পরে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

আল মাইদা আক্তার (২০) নামে এক নারীর নির্যাতনে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মাইদাকে মৃত ঘোষণা করা হলে তাঁর স্বামী মো. সিয়াম আল মুরসালিন আকাশ (৩০) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। মৃত্যুর দুদিন আগে মাইদা মারধরে জখম হওয়ার একটি ছবি তাঁর খালাতো বোনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।

মাইদার খালাতো বোন মোসাম্মৎ শাফিয়া জানিয়েছেন, ওই ছবিতে মাইদার মুখে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। তাঁর চোখ ফোলা দেখা যাচ্ছিল এবং গালের একপাশে ব্যান্ডেজ লাগানো ছিল। ছবি পাঠানোর সময় মাইদা তাঁর বোনকে বলেছিলেন, ‘আপা, ও আমাকে আজও মারছে।’

শিক্ষাজীবনে আল মাইদা আক্তার পলাশবাড়ী সরকারি কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুরে তাঁর মায়ের বাড়ি। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মাইদা ছিলেন ছোট, যেখানে তাঁর ভাই বর্তমানে চীনে পড়াশোনা করছেন।

২০২১ সালে প্রেমের সম্পর্ক থেকে সিয়াম আল মুরসালিন আকাশের সঙ্গে মাইদার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে চার ও এক বছর বয়সী দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। মাইদার বাবা শাহাজাদা মিয়ার মৃত্যুর পর মা মোছা. রহিমা খাতুন (৪৮) ভূমি অফিসে দলিল লেখার কাজ করে দুই সন্তানকে বড় করেছেন।

মাইদার মা রহিমা খাতুন গতকাল (শনিবার) মুঠোফোনে জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে সিয়াম নিয়মিত মারধর করতেন। এ নিয়ে একবার সালিসও হয়েছিল। ওই সময় সিয়াম বলেছিলেন, ‘পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর একটু সমস্যা হতেই পারে। এসব মেনে নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জামাতা সিয়াম রহিমা খাতুনকে ফোন করে জানান যে মাইদা অসুস্থ এবং পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছেন। রহিমা হাসপাতালে গিয়ে দেখেন তাঁর মেয়ে আর বেঁচে নেই। তাঁর জামাতা সিয়াম লাশ রেখে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন। সিয়ামদের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে।

মেয়েকে হত্যার অভিযোগে রহিমা খাতুন তাঁর জামাতা সিয়ামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মাইদার দুই শিশুসন্তান বর্তমানে তাদের নানির কাছে আছে। ছোট ছেলেটি মায়ের বুকের দুধ না পেয়ে সারাদিন কান্নাকাটি করছে।

খালাতো বোন শাফিয়া ছবি দেখে আঁতকে উঠে মাইদাকে সংসার ছেড়ে চলে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। জবাবে মাইদা জানিয়েছিলেন, স্বামী সব সময়ই মারধর করেন কিন্তু সন্তানেরা ছোট হওয়ায় তিনি সংসার ছেড়ে আসতে চাননি। শাফিয়া আরও জানান, সিয়ামের বাবা-মা বেঁচে নেই এবং তাঁর একমাত্র বোন কাতারে থাকেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...