চাকরিঅনলাইন চাকরিতে প্রতি পদে ২৮৭ আবেদনকারী: বিআইডিএস প্রতিবেদন
অনলাইন চাকরিতে প্রতি পদে ২৮৭ আবেদনকারী: বিআইডিএস প্রতিবেদন
অনলাইনে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে এক পদে প্রার্থী ২৮৭ জন | প্রথম আলো
অনলাইনে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে এক পদে প্রার্থী ২৮৭ জন
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪: ২৪
আজ বিআইডিএস আয়োজিত ‘কঠিন সময়ে শ্রমবাজার এবং সামগ্রিক ধাক্কা: বৃহত্তম অনলাইন চাকরির পোর্টালের তথ্যপ্রমাণ’ শীর্ষক সেমিনার হয়। বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল
বর্তমানে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। একটি পদের বিপরীতে অনলাইনে দেওয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এখন গড়ে ২৮৭ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করছেন। কোভিড-১৯ মহামারির আগের পাঁচ বছরে এই সংখ্যা গড়ে ১৭৩ জন ছিল।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আজ বিআইডিএস আয়োজিত ‘কঠিন সময়ে শ্রমবাজার এবং সামগ্রিক ধাক্কা: বৃহত্তম অনলাইন চাকরির পোর্টালের তথ্যপ্রমাণ’ শীর্ষক সেমিনারে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় শ্রমবাজার সবচেয়ে বেশি স্থবির হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে শ্রমবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় সাড়ে ৯ মাস সময় লাগে। কোভিডের প্রকোপ কমে যাওয়ার পর চাকরি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে গেছে।
শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা কোভিডের আগের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এটি কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক অতনু রব্বানী সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অতনু রব্বানী বলেন, অনলাইন জব পোর্টালের মাধ্যমে দেশের আড়াই থেকে ৩ শতাংশ চাকরি হয়। এই গবেষণাটি অনলাইনে চাকরির ১০ বছর ৬ মাসের (২০১৫–২০২৫) তথ্য সংগ্রহ করে পরিচালিত হয়েছে। দেশের আনুষ্ঠানিক চাকরির বাজারে কোভিডের আগেও প্রতিযোগিতা ছিল।
করোনার লকডাউনের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। ফলে চাকরির বিজ্ঞপ্তি ৭০ শতাংশ কমে যায়। ওই সময়ে চাকরির আবেদনও ৫৯ শতাংশ কমেছিল।
চাকরির সুযোগের চেয়ে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা কম হারে কমেছে। কোভিডের আগে প্রতি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৭৩ জন থাকলেও কোভিডের পরে গড়ে ২৮৭ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। এটি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানো চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা এবং শ্রমবাজারে ব্যাপক চাপ নির্দেশ করে।
অতনু রব্বানী আরও জানান, দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮৫ থেকে ৮৯ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের। বাকি কর্মসংস্থান আনুষ্ঠানিক খাতের। আনুষ্ঠানিক খাতের মধ্যে অনলাইন জব পোর্টালের মাধ্যমে আড়াই শতাংশ চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই অংশ কম হলেও জব পোর্টালের তথ্য শ্রমবাজারে আকস্মিক পরিবর্তনের দ্রুত সংকেত দিতে পারে, যা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে।
গত ১০ বছরে গড়ে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ১৫৪টি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। সপ্তাহে গড়ে ৩ হাজার ৬৪৬ পদের বিপরীতে আবেদনের সুযোগ ছিল। এই পদের বিপরীতে সপ্তাহে গড়ে ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৫ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। এসব পদের মধ্যে কর্মে প্রবেশের শুরুর দিকের পদ বেশি থাকে। উচ্চপর্যায়ের পদে সরাসরি নিয়োগ বেশি হচ্ছে। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৫৪ শতাংশের ক্ষেত্রে জেন্ডার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় না।
বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক অতনু রব্বানী বলেন, গত ১০ বছরে মুদ্রানীতি দিয়ে সরকার শ্রমবাজারে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। শুধু ঋণসুবিধা দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা যথেষ্ট নয়। তবে শ্রমবাজারে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি কিছুটা সুযোগ বাড়াতে পারে। বর্তমানে বিদ্যমান পদের কর্মে নিয়োগ কম এবং নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হারে বাড়ছে। ফলে বেকারত্ব বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হচ্ছে এবং চাকরি পেতে অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, "ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি।" তিনি আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মীরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। সরকার বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদনশীল অর্থনীতি গড়তে চায়, যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ জন্য বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণের চেষ্টা চলছে, যাতে অন্তত ১০টি ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ আসার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি নানাভাবে কাজ চলছে।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, কোভিটের সময়ে শ্রমবাজার বড় হোঁচট খেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবও পড়েছে।
মতামত (0)