জনপ্রিয় অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠি আজ ৫০ বছরে পা দিলেন। আজ ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। গতকাল, ৪ সেপ্টেম্বর, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তাঁর আলোচিত সিনেমা ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেতা বড় পর্দা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সমানভাবে সাবলীল।
‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’, ‘নিউটন’, ‘মাসান’, ‘মিমি’, ‘স্ত্রী’ ও ‘মির্জাপুর’-এর মতো ছবিতে তিনি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন। ছোট চরিত্রেও তাঁর উপস্থিতি দর্শকের মনে আলাদা করে জায়গা করে নেয়।
পঙ্কজ ত্রিপাঠির জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল একটি অপূর্ণ স্বপ্ন। কৃষক পরিবারের সন্তান পঙ্কজ চেয়েছিলেন, তাঁর বাবা একদিন একটি ট্রাক্টর কিনবেন। এরপর তিনি পড়াশোনা শেষ করে সেই ট্রাক্টর দিয়ে খেতখামারের কাজ করবেন।
কিন্তু পরিবারটির ট্রাক্টর কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। ছেলের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে না পারায় পঙ্কজের খুব মন খারাপ হয়েছিল। এই না পাওয়া ট্রাক্টরই তাঁকে হিন্দি সিনেমার পথে নিয়ে যায়।
খেতখামারের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে বাবা ছেলেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বললেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, পঙ্কজ চিকিৎসক হবেন। নিজের উপার্জনে একদিন ট্রাক্টর কিনে অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করবেন।
বাবার কথা মেনে পঙ্কজ বিহারের গোপালগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম ছেড়ে পাটনায় পাড়ি জমান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পড়াশোনা করে চিকিৎসক হওয়া। কিন্তু পাটনায় এসে তাঁর জীবনের হিসাবই বদলে যায়।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ছাত্ররাজনীতি ও আন্দোলনে যুক্ত হন। একসময় তাঁর থিয়েটারের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। মঞ্চ, মহড়া ও অভিনয়ের জগৎ তাঁকে এমনভাবে টানে যে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।
শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসক হতে পারেননি, অভিনেতা হয়েছেন। পরে এক অনুষ্ঠানে মজা করে তিনি বলেছিলেন, ‘ডক্টর’ হতে এসে তিনি ‘অ্যাক্টর’ হয়ে গেছেন।
যে ট্রাক্টর না পাওয়ায় একসময় কষ্ট পেয়েছিলেন, বয়স ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে পঙ্কজের কাছে সেটিকেই আশীর্বাদ বলে মনে হয়েছে। তাঁর উপলব্ধি, সব অপূর্ণতা শেষ পর্যন্ত ক্ষতি ডেকে আনে না। কোনো কোনো না-পাওয়া মানুষকে তার আসল গন্তব্যের দিকে ঠেলে দেয়।
বাবা যদি সেদিন ট্রাক্টরটি কিনতে পারতেন, তাহলে হয়তো পঙ্কজ গ্রামেই থেকে যেতেন। তিনি খেতখামারে মন দিতেন, পাটনায় যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। থিয়েটারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটত কি না, সেটিও অনিশ্চিত।
হিন্দি সিনেমা হয়তো পেত না ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’-এর সুলতান কুরেশি, ‘মির্জাপুর’-এর কালিন ভাইয়া কিংবা ‘স্ত্রী’র রুদ্রকে। যে ট্রাক্টরটি না পাওয়াকে একসময় ব্যর্থতা মনে হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাঁর সামনে সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় দরজা খুলে দিয়েছিল।
পাটনায় পড়াশোনার সময়ই অভিনয়ের প্রতি পঙ্কজ ত্রিপাঠির প্রবল আকর্ষণ তৈরি হয়। নাটকের মহড়া ও মঞ্চে অভিনয়ের টানে তিনি স্নাতকের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেন। শুধু থিয়েটার করে জীবন চালানো সম্ভব ছিল না।



মতামত (0)