পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেছেন, পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো শিল্পায়ন গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের উন্নয়ন ও শিল্পায়ন অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হতে হবে। আজ রবিবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আকিজ ইস্পাত কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণ এবং খাল ভরাটের গুরুতর অভিযোগ শোনার পরপরই প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনে যান।
প্রতিমন্ত্রী এই পরিদর্শনের সময় শিল্পায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তার সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা পরিবেশের সুরক্ষাকে উপেক্ষা করে চলতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশের যেন বিন্দুমাত্র ক্ষতি না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, তার মতে, যদি মানুষ সুস্থভাবে বাঁচতেই না পারে, তাহলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা টাকা-পয়সা দিয়ে কোনো লাভ হবে না। পরিবেশ রক্ষা মানুষের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় তার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার বাউশিয়ায় অবস্থিত গজারিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানের পর প্রতিমন্ত্রী উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই দুটি অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন, যা তার দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ ছিল।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদুল ইসলাম একটি পলিথিন ও প্লাস্টিকদূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। বৃক্ষরোপণকে তিনি পরিবেশ সুরক্ষার একটি মৌলিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে গাছ লাগাতে এবং সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা করার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, এই গাছগুলোই ভবিষ্যতে তাদের সম্পদে পরিণত হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা পালন করবে।



মতামত (0)