খেলাধুলা

প্রিটোরিয়াসের বিধ্বংসী ইনিংসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়

প্রিটোরিয়াসের বিধ্বংসী ইনিংসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়
প্রিটোরিয়াসের বিধ্বংসী ইনিংসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়
টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াসের ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা জিম্বাবুয়েকে ৪৩ রানে হারিয়েছে।

উইন্ডহোকের নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা জিম্বাবুয়েকে ৪৩ রানে পরাজিত করেছে। লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াসের বিধ্বংসী ব্যাটিং এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে ১৮৫ রান সংগ্রহ করে, জবাবে জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৪২ রানে গুটিয়ে যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের মূল কারিগর ছিলেন ওপেনার লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস। তিনি শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন এবং মাত্র ৫১ বলে ৯৪ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা, যা ১৮৪.৩১ স্ট্রাইক রেটে এসেছিল। প্রিটোরিয়াস সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থেকে আউট হন।

প্রিটোরিয়াসের সঙ্গে শুরুতে জর্ডান হারম্যানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। এই দুজনের জুটিতে দলীয় স্কোর ৬৮ রানে পৌঁছায়। হারম্যান ২৫ বলে ২৮ রান করেন, যার মধ্যে একটি চার ও দুটি ছক্কা ছিল। ৭.৪ ওভারে হারম্যানের বিদায়ের পরও দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি বজায় থাকে।

তৃতীয় উইকেটে প্রিটোরিয়াসের সঙ্গে যোগ দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। তাদের দু'জনের ব্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ব্রেভিস ২৭ বলে ৪১ রান করেন, যেখানে দুটি চার ও তিনটি ছক্কা ছিল। ১৫.২ ওভারে ব্রেভিস আউট হওয়ার সময় দলের সংগ্রহ ১৫৪ রানে দাঁড়ায়।

শেষ পাঁচ ওভারে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। ১৬.১ ওভারে কনর এস্টারহুইজেন ২ রান করে ফেরেন। এরপর রুবিন হারম্যান ১ এবং এথান বোশ ৩ রান করে আউট হন। ১৮.৬ ওভারে প্রিটোরিয়াসের বিদায়ের পর শেষ ওভারে অধিনায়ক বিজর্ন ফোর্টুইন রানআউট হন।

জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে ওয়েসলি মাধেভেরে সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি তিন ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট লাভ করেন। ব্র্যাড ইভান্স চার ওভারে ৩৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন। নিউম্যান নিয়ামহুরি একটি উইকেট শিকার করেন।

১৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই তারা বেন কারানকে হারায়। এরপর ৩৩ রানের মধ্যে ব্রায়ান বেনেট ও মাধেভেরেও প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৩৩ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর ইনোসেন্ট কাইয়া ১৮ রান করে আউট হলে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৪৩ রানে ৪ উইকেটে দাঁড়ায়।

সেখান থেকে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তবে তার সঙ্গে রায়ান বার্লের জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫১ রানে বার্ল এবং একই স্কোরে তাদিওয়ানাশে মারুমানি আউট হন। এরপর ৫৪ রানে ব্র্যাড ইভান্সের বিদায়ে ১০ ওভারের আগেই জিম্বাবুয়ে সাত উইকেট হারায়।

অধিনায়ক সিকান্দার রাজা একপ্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করেন এবং ৩৩ বলে ৪৫ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় তার এই লড়াই যথেষ্ট হয়নি। ১৩.২ ওভারে রাজার বিদায়ের সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ছিল ১০৫ রান।

শেষদিকে নিউম্যান নিয়ামহুরি কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন এবং ২৫ বলে ২৭ রান করেন। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৭ বলে ১১ রান এবং কুন্দাই মাতিগিমু ৭ বলে অপরাজিত ১১ রান যোগ করেন। তবে প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় জিম্বাবুয়ে ১৭.৪ ওভারে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণে বিয়র্ন ফর্টুইন ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি মাত্র ৩.৪ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন। ডুয়ান ইয়ানসেন ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। প্রেনেলান সুব্রায়েন একটি উইকেট পান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...