খেলাধুলা

প্রথম আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ, স্কোয়াডে নতুন মুখ

প্রথম আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ, স্কোয়াডে নতুন মুখ
প্রথম আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ, স্কোয়াডে নতুন মুখ
ঐতিহাসিক ফিফা আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। বিদেশি লিগে খেলা ফুটবলারদের অনুপস্থিতিতে দেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রস্তুতি চলছে, সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বিদেশি বংশোদ্ভূত নতুন মুখ।

বাংলাদেশ ফুটবল দল প্রথমবারের মতো ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিতে যাচ্ছে। জাকার্তায় এই ঐতিহাসিক অভিযানে নতুন অভিজ্ঞতার জন্য প্রস্তুত জামাল ভূঁইয়া ও রাকিব হোসেনদের দল। এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে।

জাতীয় দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলির তত্ত্বাবধানে ২৮ জন ফুটবলারকে নিয়ে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ক্যাম্প চলছে। বর্তমানে ফিটনেস ট্রেনিংয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। দল আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে জাকার্তার উদ্দেশে রওনা হবে।

জাকার্তায় আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে ডুলির দল।

টুর্নামেন্টের ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রিমিয়ার ডিভিশনের আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল ফাইনাল খেলবে। ফাইনালে জায়গা না পাওয়া দলগুলোর জন্যও স্থান নির্ধারণী ম্যাচ থাকবে, ফলে গ্রুপ পর্বের পর বাংলাদেশের আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের আগে কোচের প্রস্তুতিতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রাথমিক স্কোয়াডে বিদেশি লিগে খেলা কোনো ফুটবলারকে রাখা হয়নি। হামজা চৌধুরী বর্তমানে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন।

এছাড়া ফাহমিদুল, সমিত এবং তারিক কাজীরাও তাদের নিজ নিজ ক্লাবের খেলা নিয়ে ব্যস্ত। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা উইন্ডো শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাদের জাতীয় দলের সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে না।

এই ঘাটতি পূরণে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ট্রায়াল দিতে বাংলাদেশে এসেছেন দীর্ঘদেহী গোলকিপার সাইফ কেরাওয়ালা। জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু তাকে নিয়ে আশাবাদী।

ম্যানেজার বাবু জানান, "আমাদের একটা গোলকিপার আসছে, সে ৬ ফিটের উপরে লম্বা। এখানে ও প্র্যাকটিস করছে এবং খুব ভালো প্র্যাকটিস করছে, আমরা আশা করি যে ও ভালো কিছু করবে। ওর কাছ থেকে আমরা ভালো কিছু আশা করি।"

সাইফ কেরাওয়ালাই একমাত্র নন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও ফুটবলারদের জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। বাবু আরও বলেন, "বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশে যারা অবস্থান করছে, তাদেরকে আনার ব্যাপারে ফুটবল ফেডারেশন সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল সার্বক্ষণিক এই বিষয়টি তদারকি করছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দল একদিকে প্রথমবারের মতো আসিয়ান কাপের বড় মঞ্চে পা রাখার রোমাঞ্চ অনুভব করছে।

অন্যদিকে পূর্ণ শক্তির দল না পাওয়ার বাস্তবতাও রয়েছে। ঢাকায় বর্তমানে এই অসম্পূর্ণ দলটিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত করে তোলার কাজ চলছে। ১৯ সেপ্টেম্বর দল বিমান ধরবে এবং জাকার্তার মাঠে নতুন অধ্যায়ের প্রথম পৃষ্ঠা লেখা হবে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বরের প্রথম ম্যাচেই বোঝা যাবে, এই নতুন মঞ্চে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত।

বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াডের সদস্যরা হলেন: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, আনিসুর রহমান জিকো, তপু বর্মন, শাকিল আহাদ তপু, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, রহমত মিয়া, আবদুল্লাহ ওমর, শাকিল হোসেন, ইসা ফয়সাল, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, সোহেল রানা জুনিয়র, হৃদয়, শেখ মোরসালিন, কাজেম শাহ, রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, এস এম মঞ্জুরুর রহমান, মিনহাজুল করিম স্বাধীন, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সৌরভ দেওয়ান ও রাব্বি হোসেন রাহুল।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...