গত শনিবার রাত এগারোটার দিকে রংপুর নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা বৈরাগীপাড়া মাছুয়াপট্টি এলাকার একটি বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থী কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র পুত্র আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়াম (১২)। এলাকাবাসীর অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন একই এলাকার কানু দাসের পুত্র মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয় চন্দ্র দাসের পুত্র সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ দ্রুততার সাথে তদন্ত শুরু করে এবং খুনিদের ফেলে যাওয়া আলামতের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে।
গতকাল রবিবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, নিহতদের বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দুই অভিযুক্ত মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের ভবনের ওপর দিয়ে নিহতদের বাড়ির ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করছিল। তাদের শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে মাদক সেবন ও আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। এরপর তারা শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
এ সময় চিৎকার শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা সিঁড়ি দিয়ে উপরে এগিয়ে এলে খুনিরা একই কায়দায় তাকেও হত্যা করে। মায়ের চিৎকার শুনে তাদের কন্যা স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এগিয়ে আসেন। খুনিরা তাকেও গলায় গামছা ও রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সর্বশেষ তারা ঐ দম্পতির শিশু পুত্র প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে।



মতামত (0)