আন্তর্জাতিক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের এমপি পদত্যাগের ঘোষণা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের এমপি পদত্যাগের ঘোষণা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের এমপি পদত্যাগের ঘোষণা
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর আজ মঙ্গলবার তাঁর সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির সাবেক নেতা কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর আজ মঙ্গলবার তিনি এই ঘোষণা দিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের এমপি পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন।

ফেসবুকে প্রকাশিত বিবৃতিতে স্টারমার উল্লেখ করেছেন, গ্রীষ্মের সময়টাতে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁর কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হচ্ছে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের প্রতিনিধিত্ব করাকে তিনি ‘সম্মান ও সৌভাগ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এমপি পদ ছাড়লেও স্টারমার রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। তিনি জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ছাড়ার পর বৈশ্বিক বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেবেন। আগামী দিনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তির মতো বিষয় নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। একই সঙ্গে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতা মোকাবিলায় তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ অব্যাহত রাখবেন।

স্টারমার নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং লেবার সরকারের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন থাকবে বলেও জানান। পেশায় আইনজীবী (ব্যারিস্টার) স্টারমার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ডিরেক্টর অব পাবলিক প্রসিকিউশনস (ডিপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসন থেকে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিনের লেবার এমপি ফ্রাঙ্ক ডবসনের উত্তরসূরি হিসেবে এসেছিলেন। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল জেরেমি করবিনের উত্তরসূরি হিসেবে লেবার পার্টির দায়িত্ব নেন স্টারমার।

পরবর্তী চার বছরে তিনি দলকে পুনর্গঠন করেন। ২০২৪ সালের ৪ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ৪০০টির বেশি আসনে জিতিয়ে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটান। পরদিন, অর্থাৎ ৫ জুলাই, তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্টারমার বলেন, ২০১৯ সালের বিপর্যয়কর অবস্থান থেকে লেবার পার্টিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে ২০২৪ সালে বিপুল জয় এনে দেওয়ার জন্য তিনি গর্বিত। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, সরকারি সেবায় বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিশু দারিদ্র্য কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে ধাক্কা এবং দলের অভ্যন্তরে চাপের মুখে গত ২২ জুন স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে দলীয় প্রক্রিয়া শেষে অ্যান্ডি বার্নহাম নতুন নেতা নির্বাচিত হলে গত ২০ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়েন। আজকের ঘোষণার মাধ্যমে তাঁর ১১ বছরের সংসদীয় ক্যারিয়ারেরও অবসান ঘটল।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...