যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার তিনি এই হুমকি দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করার জন্য চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে গত রোববার মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি দ্বীপে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান যাতে আর মাইন পেতে রাখতে না পারে, সেজন্য লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তেহরান বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী। ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, এতে ‘বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
ট্রাম্প ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা যায়নি, তবে সেটি কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে এগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা জানানো হয়নি।
ইরান আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে আবুধাবি জানিয়েছে, দেশটির জলসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’। আইআরজিসি গতকাল সন্ধ্যায় জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।



মতামত (0)