রাজনীতি

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: এনসিপি নেতাদের ক্ষোভ ও প্রশ্ন

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: এনসিপি নেতাদের ক্ষোভ ও প্রশ্ন
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: এনসিপি নেতাদের ক্ষোভ ও প্রশ্ন
চাঁদা না দেওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পাশের নিউগিনি হাউজিং প্রোজেক্টে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল রাত ১০টার দিকে শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি চারটি পিকআপ ভ্যানে করে নির্মাণাধীন আবাসিক এলাকাটিতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে, যার ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল এবং তারা বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করে।

দুর্বৃত্তদের হামলায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও সম্পূর্ণরূপে তছনছ হয়ে যায়। হামলাকারীরা স্টুডিওতে থাকা সব সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ লুট করে নিয়ে যায়। স্টুডিওর বিভিন্ন জিনিসপত্রও ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির একটি লাইভ ভিডিওতে আসেন। সেই ভিডিওতে তিনি তার স্টুডিওর ভাঙচুর ও লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই ঘটনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা জনাব সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে কি কোনো সরকার আছে?

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আজ রোববার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেছে। তিনি আল্লাহ যেন দেশকে সকল চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও জালিমের হাত থেকে রক্ষা করেন, সেই মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের কঠিন সময়ে সালমান মুক্তাদির প্রকাশ্যে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একজন নাগরিককে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে পরিবর্তনটা কোথায়। এনসিপির এই নেতা আরও লেখেন, এক জালিমের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আরেক জালিমের হাতে পড়ার জন্য মানুষ জুলাইয়ে দাঁড়ায়নি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারাও এই ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আজ রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, তিনি ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, এই দেশে খুব কম মানুষেরই সালমান মুক্তাদিরের মতো এত বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।

ডা. তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, যেই এই হামলা ও ভাঙচুর করেছে, তারা জানত যে পুরো দেশ বিষয়টি দেখবে এবং সরকারের একেবারে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছাবে। তারপরও তারা স্টুডিও তছনছ করে গেছে এবং সেই ধ্বংসযজ্ঞ সবার দেখার জন্য ফেলে রেখে গেছে। তিনি এটিকে এক ধরনের ভিন্ন মাত্রার ঔদ্ধত্য হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, মানুষ তখনই এমনটা করে, যখন তারা মনে করে তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সালমানের সঙ্গেও এমনটা করা যায়, তাহলে ভাবুন তো দোকানদার ও ছোট ব্যবসার মালিকদের কী অবস্থা হচ্ছে, যাদের গল্প কখনো খবরের শিরোনাম হয় না।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...