স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ‘হেলথ হাব’ ও বাড়ি বাড়ি পরীক্ষা: মন্ত্রীর ঘোষণা

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ‘হেলথ হাব’ ও বাড়ি বাড়ি পরীক্ষা: মন্ত্রীর ঘোষণা
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ‘হেলথ হাব’ ও বাড়ি বাড়ি পরীক্ষা: মন্ত্রীর ঘোষণা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’ এবং বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার জন্য তৃণমূলের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনার অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’ এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ চালু করা হবে।

মন্ত্রী রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাটে ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন। এই পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক আল মাখবরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী তার বক্তব্যে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের ‘হেলথ হাব’গুলো হবে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা একই ছাতার নিচে দেওয়া হবে। এর ফলে গ্রামীণ মানুষ একই স্থান থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

‘হেলথ হাব’গুলোতে চিকিৎসক পদায়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন। এছাড়া, স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরাও সময়মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদ্যমান উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১৫১টি করা হচ্ছে। এর ফলে উপজেলা পর্যায়ে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও ভর্তির সুযোগ বাড়বে।

একই সঙ্গে, উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীরা নিজ উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন, যার ফলে তাদের জেলা বা বিভাগীয় শহরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। এটি রোগীদের ভোগান্তি লাঘবে সহায়ক হবে।

জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। এছাড়া, ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শিক্ষক সংকট মোকাবিলা করে শিক্ষাব্যবস্থা আরও গতিশীল করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্ধ থাকা আইসিইউ চালু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, নতুন মেডিকেল কলেজগুলোর কার্যক্রম শুরু করাও সম্ভব হবে। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের অভাব পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও মন্ত্রী সতর্ক করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এই পরিকল্পনাগুলো আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...