ভিডিওশাহজালাল বিমানবন্দরের ভিডিও নিয়ে আনসার-ভিডিপির ব্যাখ্যা
শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিডিও নিয়ে আনসার-ভিডিপির ব্যাখ্যা
শাহজালাল বিমানবন্দরে দর্শনার্থীকে টার্মিনালে নেওয়ার ভিডিও নিয়ে আনসার-ভিডিপি ব্যাখ্যা দিয়েছে। বাহিনীর দাবি, দর্শনার্থী নিষিদ্ধ এলাকায় অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় অ্যাভসেকের নির্দেশে তাকে ভেতরে নেওয়া হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ভিডিও নিয়ে আনসার-ভিডিপি তাদের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ শিরোনামে একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। এই ভিডিও এবং এর সাথে যুক্ত ক্যাপশন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলে আনসার-ভিডিপি জানিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনসার-ভিডিপি এই ব্যাখ্যা প্রদান করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যদের সঙ্গে একজন দর্শনার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরবর্তী সময়ে তাকে আগমনী গেটের ভেতরে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি। প্রকাশিত ভিডিওতে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আনসার-ভিডিপি তাৎক্ষণিকভাবে বাহিনীর গোয়েন্দা শাখাকে দিয়ে বিষয়টি অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধানে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। গত ১ সেপ্টেম্বর এই ঘটনাটি ঘটেছিল বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।
অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, সেদিন বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় একজন যাত্রীর স্বজন অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ওই স্থানে সাধারণ যাত্রী বা স্বজনদের অবস্থান করা নিষিদ্ধ। আনসার সদস্যরা এই নিষিদ্ধ স্থান থেকে সরে যাওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিকে একাধিকবার অনুরোধ ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। তিনি আগমনী গেটের অভ্যন্তরে বারবার উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছিলেন। তার এই আচরণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একপর্যায়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে পুনরায় সরে যেতে বলেন। তখন ওই ব্যক্তি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ শুরু করেন। তিনি অশোভন মন্তব্য, গালাগালি এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এই পরিস্থিতি কর্তব্যরত অ্যাভসেকের একজন করপোরালের নজরে আসে। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। এ সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে করপোরালের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পরবর্তীতে অ্যাভসেকের ওই করপোরাল কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। তিনি আনসার সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগমনী গেটের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাভসেক কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা অনুসারেই আনসার সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।
আনসার-ভিডিপি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা একপক্ষীয় ক্যাপশন প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারে। এতে জনমনে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব সময় নিরাপত্তাবিধি, শৃঙ্খলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে থাকে।
বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্ন ভিডিও বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মতামত (0)