ভিডিওকৌতুক অভিনেতা রনি ডাকপিয়নের বেশে আমন্ত্রণপত্র বিলি
কৌতুক অভিনেতা রনি ডাকপিয়নের বেশে আমন্ত্রণপত্র বিলি
কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনি বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে ডাকপিয়নের বেশে আমন্ত্রণপত্র বিলি করেছেন। তার কমেডি স্কুল ‘হেডমাস্টার’ আজ সন্ধ্যায় ‘লাফ লেটার’ নামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
গতকাল দুপুরে কারওয়ান বাজারের একটি কার্যালয়ে কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিকে ডাকপিয়নের বেশে দেখা যায়। তিনি খাকি পোশাক, মাথায় লম্বা টুপি এবং দুই হাতে চিঠির বান্ডিল নিয়ে উপস্থিত হন। লিফটে তাকে দেখে অনেকে অবাক হন এবং পরিচিত মুখ দেখে নিশ্চিত হতে দ্বিতীয়বার চোখ ফেরান।
আবু হেনা রনি জানান, আজ (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব চিঠি দিবস। এই দিনটি উপলক্ষে তার কমেডি স্কুল ‘হেডমাস্টার’ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘লাফ লেটার’ নামের এই অনুষ্ঠানটি আজ সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র বিলি করতেই তিনি এই ব্যতিক্রমী সাজে এসেছেন।
অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে, যে আবেগ হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় এবং যার গা থেকে নতুন কাগজের সুবাস ভেসে আসে, সেই চিঠি আজ দুর্লভ। এক টুকরো কাগজই একসময় কত আবেগ, অপেক্ষা ও স্মৃতির চাবিকাঠি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিকে ঘিরে মানুষের ব্যাকুলতা, অপেক্ষা ও সম্পর্কের গল্পগুলোকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
আবু হেনা রনি জানান, একসময় চিঠির জন্য অপেক্ষা করার মধ্যেও এক আলাদা আনন্দ ছিল। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি দেখলেই কৌতূহল তৈরি হতো—চিঠিটি কার, কে লিখেছেন, ভেতরে কী আছে। তিনি বলেন, চিঠি হাতে পেলে এক অন্য রকম অনুভূতি হতো এবং চিঠির আদান-প্রদান একটি মধুর সময় ছিল।
বিশ্ব চিঠি দিবস ঘিরে তেমন কোনো আয়োজন চোখে না পড়ায় রনি নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, বিশ্ব চিঠি দিবসে সারা দেশে কোনো আয়োজন চোখে পড়েনি, এমনকি ডাক বিভাগেও কোনো আয়োজন অন্তত তার চোখে পড়েনি। নিজের ভালোবাসার কারণে তিনি তার শিল্পমাধ্যম নিয়ে একটি আয়োজন করার কথা ভাবেন। কৌতুক, গান ও কবিতায় ভরপুর হবে এই আয়োজন।
চিঠি নিয়ে রনির নিজের জীবনেও অনেক স্মৃতি রয়েছে। তিনি প্রেমিকার কাছে মুঠ পাকিয়ে ঢিলের মতো চিরকুট ছুড়ে দিতেন। কোনোবার প্রেমিকার বাবা পেতেন, কখনো বাড়ির ভৃত্য পেতেন। শেষে তাদের বাড়ির একটি গরু চিঠি পৌঁছানোর মাধ্যম হয়ে ওঠে; গরুর গলার দড়িতে চিরকুট আটকে দিতেন এবং প্রেমিকা তা জানত।
অভিজ্ঞতার সঙ্গে কৌতুক মিশিয়ে চিঠি নিয়ে আরেকটি ঘটনার কথা শোনান রনি। একবার চিঠি পেয়ে একজন তাকে বকাঝকা শুরু করেন, “আমার সংসার ভাঙতে চাও নাকি?” রনি তখন জানান, তিনি ওই নম্বরে কল করেছিলেন এবং বলা হয়েছিল, “ফোন সুইচড অফ, ট্রাই লেটার,” তাই তিনি লেটারে ট্রাই করেছেন।
নিজের চিঠি পাওয়ার অভিজ্ঞতাও শোনান তিনি। বিটিভি বা বিভিন্ন জায়গা থেকে তার কিছু চেক ও চিঠি আসে, কিন্তু সেগুলো তার ঠিকানায় পৌঁছায় না। তাকে পোস্ট অফিসে গিয়ে খোঁজ করে সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়। তিনি মনে করেন, হয়তো আগের মতো চিঠি আসে না বলে ডাকপিয়নদেরও সেই অভ্যাসটা চলে গেছে এবং তিনি এই বিষয়টি মনে করিয়ে দিতে চান।
চিঠির যুগ এবং ইনবক্সে বার্তার এই সময়ের দুই প্রজন্মের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে মুখোমুখি করাও এই আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। রনি বলেন, তিনি চিঠির সময়ের সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে চান এবং সবাইকে এক জায়গায় করতে চান। তিনি দুই সময়ের মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির বিনিময় করতে চান এবং দুই প্রজন্মের মানুষকে হাজির করতে চান। কোথায় ঘাটতি এবং কোথায় ভালোবাসা, তা দেখতে চান বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। অনুষ্ঠানটি আজ সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
মতামত (0)