জাতীয়

সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিবর্তনে লাগবে জনগণের অনুমোদন

সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিবর্তনে লাগবে জনগণের অনুমোদন
সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিবর্তনে লাগবে জনগণের অনুমোদন
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটি পরিবর্তনে জনগণের অনুমোদন নিশ্চিত করতে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করা হবে। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বিধান ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের যে বিধান ছিল, তা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। আদালতের রায়ে ওই বাতিলের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় সংশোধিত সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কিছু আর্টিকেলের পরিবর্তন, সংশোধন ও সংযোজন আসবে। এসব পরিবর্তনে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি সাংবিধানিক গণভোট হবে এবং এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আসবে। আর্টিকেল ৪৮ ও ৫৬-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ধারণ করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি জানান, আর্টিকেল ১৪২-এ যেখানে গণভোট ছিল না, সেখানে আবার এটি ধারণ করতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে যাতে কেউ সহজে তা পরিবর্তন করতে না পারে, সে বিষয়ে সাংবিধানিক সুরক্ষা রাখা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও জনগণের কাছে যেতে হয়, সে জন্য গণভোটের বিধান রাখতে হবে। এই সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো সংবিধানে নিয়ে আসলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে গণভোট দিতে হবে।

সংবিধানে বর্তমানে গণভোটের বিধান নেই—এমন বক্তব্যের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ কেউ বলছেন সংবিধানে গণভোট নেই, কিন্তু তারা সঠিক কথা বলছেন না। তিনি জানান, পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে আর্টিকেল ১৪২ থেকে যে গণভোটের বিধান তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেটির বৈধতা ছিল না। হাইকোর্ট ইতোমধ্যে এটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দিয়েছে, অর্থাৎ আগের বিধানই সঠিক।

এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর কথা উল্লেখ করেন। মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, চন্দ্রগ্রহণ সরে গেলে চাঁদ যেমন আবার আলো দেয়, তেমনি হাইকোর্টের রায়ে গণভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক হওয়ায় আগের বিধানটি বহাল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি আইনের জটিল প্রশ্ন আছে; যতদিন পার্লামেন্টে আবার সংবিধানে ধারণ না করবে, ততদিন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলা যাবে না।

তবে বিচার বিভাগ তাদের যে রায় দিয়েছে, সেই রায় অনুসারে সংবিধানে এই সংশোধনীতে গণভোটের বিধান ধারণ করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের বিধান বহাল হয়েছে এবং এটি যখন সংবিধানে আনা হবে, তখন তা মেনে চলতে হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...