রাজনীতি

সংসদে সংকট সমাধানে ব্যর্থতায় ১১ দলের রাজপথে আন্দোলন

সংসদে সংকট সমাধানে ব্যর্থতায় ১১ দলের রাজপথে আন্দোলন
সংসদে সংকট সমাধানে ব্যর্থতায় ১১ দলের রাজপথে আন্দোলন
দেশের চলমান সংকটের সমাধান সংসদে না হওয়ায় ১১টি রাজনৈতিক দল রাজপথে নেমেছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এই তথ্য জানিয়েছেন।

দেশের চলমান সংকটের সমাধান সংসদে না হওয়ায় ১১টি রাজনৈতিক দল রাজপথে নেমেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশকে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে ১১ দল ভূমিকা পালন করে আসছে।

গতকাল রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠক শেষে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ এসব কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ নিজেই।

বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী ও মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার যোগ দেন। এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসূফ আলী ও মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বৈঠকে অংশ নেন।

জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট অন্য নেতারাও এই প্রস্তুতি বৈঠকে অংশ নেন।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঢাকা-রংপুর দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চে জনগণের আশাতীত সাড়া পাওয়া গেছে। জনবান্ধব ইস্যু হওয়ার কারণেই জনগণ এতে সাড়া দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, ১১ দলের ৬ দফা দাবি এখন ৭ দফায় রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে নতুন করে দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত হয়েছে।

আগামী শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে লংমার্চের জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ যাত্রা করবে। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের চেয়েও খারাপ হয়েছে। তিনি বলেন, ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংসদে নোটিশের মাধ্যমে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।

সরকার প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা ও প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এটিকে গণতন্ত্রের ওপর চপেটাঘাত এবং গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তেল, গ্যাস ও সার সংকট প্রসঙ্গে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের এসব সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলীয় নেতা একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। বরং সংকটের কৃত্রিম অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। যেকোনো সংকট সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় সরকার বারবার যে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট। গত ছয় মাসে সংকট নিরসনে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার ‘সিঙ্গেল ট্র্যাকে’ চলছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সার সংকট দেশে কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করছে এবং এর ফলে গোটা জাতি খাদ্য সংকট ও ভোগান্তিতে পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও বাজার মনিটরিংয়ে সরকারের ব্যর্থতা নিয়েও তিনি কথা বলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...