রাজনীতি

সংসদে উপনেতার পদ ও আসনবিন্যাস নিয়ে আলোচনা

সংসদে উপনেতার পদ ও আসনবিন্যাস নিয়ে আলোচনা
সংসদে উপনেতার পদ ও আসনবিন্যাস নিয়ে আলোচনা
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দেখা যাওয়ায় সরকারি দলের উপনেতার পদ নিয়ে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এই আসনটি শূন্য হয়।

সংসদে সরকারি দলের উপনেতার পদ নিয়ে নতুন করে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সংসদ নেতার পাশের আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দেখা যাওয়ায় এই আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণত সংসদ নেতার পাশে সংসদ উপনেতার আসন নির্ধারিত থাকে।

সংসদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ নেতার পর সংসদ উপনেতার পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দলের সবচেয়ে সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতাদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সংসদ নেতার পাশের আসনেই সংসদ উপনেতাকে বসতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংসদ নেতা যাদের কাছ থেকে সংসদ কার্যক্রমে বেশি সহযোগিতা নিতে চান, তাদেরকেই তার কাছের আসনে বসার ব্যবস্থা করে থাকেন।

এর আগে সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বসতেন। তখন তাকে সরকারি দলের উপনেতা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল, যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা ছিল না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল তার মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তার ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটিও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুলের আসনে এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে বসতে দেখা যাচ্ছে। এই নতুন আসনবিন্যাস নিয়ে বিএনপি ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি কেবল নিয়মিত আসন পুনর্বিন্যাস নাকি সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার প্রস্তুতি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এখনো সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদ উপনেতা করার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে ত্রয়োদশ সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর তালিকাতেও বর্তমানে সংসদ উপনেতার নাম উল্লেখ নেই। সেখানে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সংসদ উপনেতার দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। সংসদ উপনেতা প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার সাংবিধানিক বা নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন না। সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বা তার কর্তৃত্বে প্রয়োগ হয়। প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদে আলাদাভাবে নির্ধারিত।

সংসদের সরকারি ব্যাখ্যায় উপনেতার ভূমিকা হলো সংসদ নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রম ও আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা। পদটি মূলত সংসদের ভেতরে নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত; এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী দায়িত্বের বিকল্প নয়। ফলে সালাহউদ্দিন আহমদ ভবিষ্যতে সংসদ উপনেতা হলে এর তাৎপর্য হবে সংসদে সরকারের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করা।

কৌতূহলের মূল কারণ হিসেবে নতুন আসনবিন্যাসটিকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এতদিন সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বসতেন। তার পরের আসনে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপরের আসনটি ছিল সালাহউদ্দিন আহমদের।

নতুন আসনবিন্যাসে মির্জা ফখরুলের জায়গায় সালাহউদ্দিন আহমদ উঠে এসেছেন। তার পরের আসনে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপরের আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, আগের সারিতে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদকে আরও সামনে আনা হয়েছে।

একইভাবে ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারির আসনবিন্যাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য আমানউল্লাহ আমানও সামনে এসেছেন। এ কারণেই দলের অনেক নেতা এটিকে শুধু একটি আসন বদলের ঘটনা হিসেবে দেখছেন না।

জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের আসনটি কে পাবেন, এ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা ছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান কিংবা অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কেউ আসতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে সালাহউদ্দিন আহমদ বসায় নতুন করে হিসাব শুরু হয়েছে।

একটি পক্ষ মনে করছে, চিফ হুইপকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নতুন আসনবিন্যাস মূলত তারই প্রতিফলন। আবার দলের আরেকটি অংশ মনে করছে, সংসদ নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য সালাহউদ্দিন আহমদকে সামনে আনা হয়েছে।

বিএনপির অতীতের প্রসঙ্গ টেনে একজন নেতা বলেন, দলটি বিভিন্ন মেয়াদে সংসদ উপনেতার পদ পূরণ করেনি। ফলে এবারও পদটি পূরণ করা হবে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলের কেউ কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। সংসদ উপনেতা কে হবেন, সেটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে পদটি শূন্য হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...