রাজনীতি

সংসদীয় কমিটিতে সভাপতি পদ নিয়ে সরকারি-বিরোধী দলের বিতর্ক, নতুন কমিটি গঠন হয়নি

সংসদীয় কমিটিতে সভাপতি পদ নিয়ে সরকারি-বিরোধী দলের বিতর্ক, নতুন কমিটি গঠন হয়নি
সংসদীয় কমিটিতে সভাপতি পদ নিয়ে সরকারি-বিরোধী দলের বিতর্ক, নতুন কমিটি গঠন হয়নি
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। সরকার বিশেষ কমিটিতে যোগ দেওয়ার শর্ত দিলেও বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করেছে, ফলে নতুন কোনো কমিটি গঠন হয়নি।

জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে এই পদ বণ্টন নিয়ে আজ রোববার রাতে অনির্ধারিত এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নের সুরাহা হয়নি এই বিতর্কে।

সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের সভাপতি পদ দিতে আপত্তি নেই। এর জন্য বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দিতে হবে। সরকারি দল বিরোধী দলের অবস্থানকে বিপরীতমুখী বলে উল্লেখ করেছে, কারণ তারা সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করলেও সনদের ভিত্তিতে বিভিন্ন দাবি তুলছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দল সরকারি দলের এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, একটি কমিটিতে যোগ দেওয়ার শর্তে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার প্রস্তাব সঠিক নয়। বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে কোনো প্রতিনিধি দেবে না।

তবে বিরোধী দল জুলাই সনদ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলোর ২৬ শতাংশের সভাপতি পদ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে দাবি করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এই অনির্ধারিত বিতর্কে অংশ নেন।

সংসদের আজকের কার্যসূচিতে নতুন সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা ছিল। তবে বিতর্কের পর নতুন কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। শুধু চারটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে মোট ১১টি বিষয়ভিত্তিক স্থায়ী কমিটি এবং ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত মোট ১৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বর্তমানে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে ‘রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল’ হিসেবে সই করা জুলাই সনদে এ বিষয়ে প্রস্তাব রয়েছে। সনদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা।

এ ছাড়া সনদে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংবিধানে এই বিধান যুক্ত করার কথাও জুলাই সনদে উল্লেখ আছে। বিএনপিসহ ৩০টি দল ও জোট এই প্রস্তাবে একমত হয়েছিল।

সংসদে বিরোধী দলের আসনের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ। এই অনুপাত অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি কমিটির মধ্যে প্রায় ১০টির সভাপতি পদ তাদের পাওয়ার কথা। সনদে সরাসরি উল্লিখিত চারটি কমিটির সঙ্গে এই ১০টি কমিটি যোগ করলে বিরোধী দলের মোট ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জুলাই সনদের এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। সরকার চাইলে এখনই এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি কোন দল থেকে নির্বাচন করা হবে, তা সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া নেই।

অন্যদিকে, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদ একটি ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়। বিরোধী দলকে ওই কমিটির জন্য পাঁচজনের নাম দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা কোনো নাম দেয়নি।

বিরোধী দল ওই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। তবে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের ধারণাগত মতভিন্নতা রয়েছে।

সংসদীয় কমিটি গঠন-সংক্রান্ত কার্যসূচিতে যাওয়ার আগে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে নাম দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, বিরোধী দল তাকে জানিয়েছে যে তারা ওই কমিটিতে থাকবে। এই কারণে চিফ হুইপ তখন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি পুনর্গঠন এবং নতুন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করতে চাননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় উপনেতাকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।

পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সংসদে সদস্যসংখ্যা অনুসারে সংসদীয় কমিটির সদস্য ও অন্যান্য পদ বণ্টনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আসন অনুপাতে কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ সদস্যপদ পেতে সমস্যা হচ্ছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...