রাজনীতিসংসদের ভাষা ও লংমার্চ নিয়ে জামায়াত নেতার অভিযোগ
সংসদের ভাষা ও লংমার্চ নিয়ে জামায়াত নেতার অভিযোগ
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি তির্যক ভাষা প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। তিনি সরকারের ব্যর্থতা ও আসন্ন লংমার্চের বিষয়েও কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের অপদস্থ করার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, সংসদীয় ভাষা বাদ দিয়ে তির্যক ভাষা প্রয়োগ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলেও মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন।
সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে জুলাইয়ের রক্তের প্রতিদান দেওয়ার কথা বলছে। তবে সনদ বাস্তবায়নে জনগণের সংশয় কাটছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সরকারকে লংমার্চ বাধাগ্রস্ত না করে এই অনাস্থা আর না বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ দূর করতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার নিজেদের দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে দ্বিচারিতা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আস্থাহীনতার সংকট নিয়ে সরকার ছয় মাস পার করেছে বলে তিনি জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে পরমতসহিষ্ণু এবং গণতন্ত্রের প্রতি আন্তরিক হওয়ার প্রমাণ দিতে বলেন। তিনি বলেন, লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা না দিয়েই সরকার এটি প্রমাণ করতে পারে।
বিরোধী দলের লংমার্চে কত লিটার তেল লাগবে, সেটির হিসাব সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী করছেন বলে তিনি জানান। মন্ত্রীরা বলছেন, এই লংমার্চে এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার এটিকে হাস্যকর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গাড়ি চলবে এবং আগে যেগুলো রাস্তায় চলত, সেগুলো এখন লংমার্চের গাড়িবহরে চলবে। গাড়ি বন্ধ করে তেল সমস্যার সমাধান করা যাবে না, বরং গাড়ি চলবে এবং সংকটের সমাধানও করতে হবে বলে তিনি মত দেন।
চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিস্তারিত তথ্য দেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশ হবে রাজধানীর শাপলা চত্বরে। এরপর প্রথম পথসভা হবে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে। পরের পথসভা কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে, তারপর ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হবে। সর্বশেষ পথসভা হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, সব কটি পথসভায় ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তবে সবাই কথা বলবেন না, কোন পথসভায় কারা কথা বলবেন, সেটি আগে থেকে নির্দিষ্ট থাকবে। এ ছাড়া গাড়িবহরে থাকা ১১ দলের নেতা-কর্মীরা গাড়ি থেকে নামতে পারবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লংমার্চের গাড়িবহরে হাজারের মতো গাড়ি থাকবে বলে গোলাম পরওয়ার জানান। তিনি বলেন, এসব গাড়ির বাইরে পথে পথে আরও গাড়ি যুক্ত হবে। যানজটের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাস্তার দুই লেনের একটিতে লংমার্চের গাড়িবহর যাবে। অন্যটি সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।
বড় পরিসরের লংমার্চে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য তাঁরা ওই রুটের মানুষদের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। লংমার্চের পথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা এখনই তাঁরা করছেন না বলে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান। পুলিশের আইজি ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে কোনো বাধা এলে কঠিন প্রতিরোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, বাধা এলে লড়াই বাধবে এবং তাতে ১১–দলীয় ঐক্য জিতবে। লংমার্চে তেল খরচের হিসাবের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী লাল বাসে সারা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং অনেক সফরসঙ্গী নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমানেও যাতায়াত করছেন, সেখানে তেলসংকট না হলে বিরোধী দলের লংমার্চেও তেলের সংকট হবে না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, দেশের মানুষ লংমার্চের দিকে তাকিয়ে আছে। জ্বালানিসংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হওয়ায় লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান আশা করেন, লংমার্চে দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ ঘোষণার পর থেকে কয়েক দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম যানজট তৈরি করা হচ্ছে। লংমার্চের দিন সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম যানজট তৈরি করা হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান)। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজীও সভায় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলামও বক্তব্য দেন।
মতামত (0)