স্বাস্থ্য

সুচ ছাড়াই রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ, বাড়ছে সিজিএমের ব্যবহার

সুচ ছাড়াই রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ, বাড়ছে সিজিএমের ব্যবহার
সুচ ছাড়াই রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপ, বাড়ছে সিজিএমের ব্যবহার
সুচ না ফুটিয়েই রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপের জন্য কনটিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং ডিভাইস (সিজিএম) ব্যবহার বাড়ছে। এটি ত্বকে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা সুগারের ওঠানামা রেকর্ড করে।

কনটিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং ডিভাইস (সিজিএম) একটি ছোট প্যাঁচের মতো যন্ত্র। এটি ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ২৪ ঘণ্টা রক্তের গ্লুকোজের ওঠানামা রেকর্ড করে। বর্তমানে বাংলাদেশেও এই ডিভাইসটির ব্যবহার বাড়ছে।

ডায়াবেটিসের রোগীদের সাধারণত বাড়িতে গ্লুকোমিটারে নিজের রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে বলা হয়। এর মাধ্যমে রক্তে সুগারের মাত্রা নজরদারিতে রাখা সম্ভব হয়। গ্লুকোমিটারে আঙুলে সুচ ফুটিয়ে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়া যায়।

তবে গ্লুকোমিটার ব্যবহারে দুটি সমস্যা দেখা যায়। আঙুলে সুচ ফোটানো অনেকের কাছে কষ্টদায়ক ও অস্বস্তিকর। এছাড়া, ঠিক ওই সময়কার রক্তের সুগারের মাত্রা জানা গেলেও দিনের অন্য সময় কেমন থাকে, তা জানা সম্ভব হয় না।

এই কারণে রোগীকে প্রায়ই দিনে চার বা ছয়বার আঙুল ফুটো করে পরীক্ষা করতে হয়। খাবার আগে ও পরে সুগারের মাত্রা কত ছিল, তা জানতে এই পদ্ধতি বেশ ঝক্কির কাজ। অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ জানান, সিজিএমে বারবার আঙুল ফুটো করার প্রয়োজন নেই।

সিজিএম ডিভাইসটি শরীরের যেকোনো জায়গার ত্বকে স্থাপন করা হয়, সাধারণত বাহুতে বা পেটে। একটি কোমল পানীয়র বোতলের মুখ বা ক্যাপের মতো দেখতে যন্ত্রটি থেকে একটি সরু তার ত্বকে খানিকটা প্রবেশ করে থাকে। এটি গ্লুকোমিটারের মতো রক্ত থেকে সুগার মাপে না।

সিজিএম ডিভাইসে একটি সেন্সর লাগানো থাকে। এটি সার্বক্ষণিক ত্বকের নিচের ইন্টারস্টিশিয়াল ফ্লুইড বা কোষের মধ্যকার তরল থেকে সুগার পরিমাপ করে। পরিমাপ করা তথ্য ক্রমাগত স্মার্টফোনের অ্যাপসে সরবরাহ করা হয়।

কেউ চাইলে এই তথ্য বা ডেটা প্রিয়জন, সন্তান বা চিকিৎসকের অ্যান্ড্রয়েড বা স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে পারেন। এতে বৃদ্ধ মা-বাবা বা স্বজনের সুগারের অবস্থা সন্তান বা ব্যক্তিগত চিকিৎসক দূরে বসেও পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কখন কোন খাবার গ্রহণের পর রক্তে সুগার বেড়েছিল বা কমে গিয়েছিল, তার একটি সম্পূর্ণ রেকর্ড রোগী এবং তাঁর চিকিৎসক দেখতে পান। এটি রোগীর খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে সাহায্য করতে পারে।

অনেক যন্ত্রে অ্যালার্ম যুক্ত করা থাকে। ফলে অস্বাভাবিক সুগার (অতিরিক্ত বেশি বা কম) হলেই অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং রোগী বা তাঁর স্বজন সচেতন হতে পারেন। সিজিএমের সেন্সর সাধারণত দুই সপ্তাহ পরপর পরিবর্তন করতে হয়।

ইমপ্ল্যান্ট করা যায় এমন যন্ত্রও আছে, যা মাসের পর মাস একইভাবে রাখা সম্ভব। একটি টেপ দিয়ে ঢেকে ফিক্স করে রাখলে গোসল বা পোশাক পাল্টানোর সময়ও স্থানচ্যুতির ঝুঁকি থাকে না। বর্তমানে বাংলাদেশেও এই যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। বারবার সুই দিয়ে রক্ত বের করে গ্লুকোমিটারে সুগার টেস্ট করার ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে অনেকেই সিজিএমে ঝুঁকছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...