রুপালি পর্দায় তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতি দর্শকদের মন জয় করে। তবে অভিনয়ের বাইরেও তাঁদের অনেকেরই নিজস্ব প্রতিভা রয়েছে। কেউ সংগীত চর্চা করেন, কেউ খেলাধুলা করেন, আবার কেউবা ক্যানভাসে রংতুলির আঁচড় কাটেন।
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান দাবার ছকেও দক্ষতা দেখিয়েছেন। এই সুপারস্টার প্রতিযোগিতামূলক দাবা খেলেছেন এবং গ্র্যান্ডমাস্টার বিশ্বনাথন আনন্দের মুখোমুখিও হয়েছেন। সিনেমায় তাঁর কৌশলী চিন্তাভাবনার পেছনে দাবার প্রতি এই ভালোবাসার প্রভাব থাকতে পারে।
অভিনেতা অক্ষয় কুমার বলিউডে আসার অনেক আগে ব্যাংককে মার্শাল আর্টে প্রশিক্ষণ নেন। তিনি একজন রাঁধুনি হিসেবেও কাজ করেছেন, এমনকি ঢাকা শহরের এক রেস্তোরাঁতেও কয়েক মাস রাঁধুনির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর তায়কোয়ানদোয় ব্ল্যাক বেল্ট রয়েছে এবং তিনি মুয়াই থাইয়েও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। রান্নার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে; শুটিং সেটে প্রায়ই সহকর্মীদের জন্য রান্না করেন তিনি।
আলিয়া ভাট অভিনয় ও গানের দক্ষতার জন্য পরিচিত হলেও তাঁর চারকোল স্কেচ করার প্রতিভা অনেকের কাছে অজানা। শিল্পীমনের অধিকারী আলিয়া মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আঁকা ছবির ঝলক প্রকাশ করেন। তাঁর সূক্ষ্ম স্কেচে গভীরতা ও কল্পনাশক্তির প্রকাশ দেখা যায়। এর পাশাপাশি তিনি ‘হাইওয়ে’ ও ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এর মতো ছবিতে গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
দীপিকা পাড়ুকোন বলিউডে আসার আগে ক্রীড়াজগতের এক প্রতিভাবান মুখ ছিলেন। বাবা খ্যাতিমান ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় প্রকাশ পাড়ুকোনের পথ অনুসরণ করে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাডমিন্টন খেলেছেন। কোর্টে শেখা শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা তাঁর অভিনয়জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
পরিণীতি চোপড়া একজন প্রশিক্ষিত হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। সংগীতে তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে এবং তিনি এই বিষয়ে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বলিউডে আসার আগে সংগীত তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করার পরও তিনি সেই আবেগকে লালন করে চলেছেন। ‘মেরি পেয়ারি বিন্দু’ ছবির ‘মানা কে হাম ইয়ার নেহি’ গানে তিনি নিজের কণ্ঠের দক্ষতা দেখিয়েছেন।
রণদীপ হুদার অভিনয়ের বাইরেও ঘোড়সওয়ার ও পোলো খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই ক্ষেত্রগুলিতে। প্রাণিকল্যাণ নিয়েও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং অবসরে ঘোড়াদের প্রশিক্ষণ দিতে সময় কাটান।
সালমান খান পর্দায় ঝড় তোলার পাশাপাশি ছবি আঁকায় শান্তি খুঁজে পান। তাঁর আঁকা ছবি বিভিন্ন সময় দাতব্যকাজের জন্য নিলামে তোলা হয়েছে। আঁকাআঁকির পাশাপাশি তিনি গীতিকার হিসেবেও কাজ করেছেন; ‘রেস ৩’ ছবির ‘সেলফিশ’ গানের কথা তিনি নিজেই লিখেছিলেন।



মতামত (0)