বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা – বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ, যেখানে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। এই দুর্যোগগুলি ব্যাপক পরিস্থিতি সৃজন করে এবং মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে প্রধানতঃ নিম্নলিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি ঘটতে থাকে:

  1. খরা ও অনাবৃষ্টি: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, এবং খরা বা অনাবৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অপেক্ষাপত্তিতে খরা দেশের কৃষিব্যবস্থার উন্নতি করে এবং খাদ্য সরবরাহে সমস্যা উত্পন্ন করে।
  2. ঝড়: বাংলাদেশ সমুদ্রের কাছে অবস্থিত, এবং প্রতি বছরে একাধিক ঝড় বা সাইক্লোন দেশটি আক্রমণ করে। এই ঝড়গুলি বন্যা, ভূমিধস, ও জলোচ্ছ্বাস সহ বিভিন্ন প্রকারের প্রতিকার দেশের মানুষের উপর ফেলে।
  3. বন্যা: বন্যা বাংলাদেশের একটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেখানে বৃদ্ধি হওয়া নদীগুলি তাদের সীমানা অতিক্রম করে জলবায়ু বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে থাকে, এবং সরকার ও অন্যান্য সংস্থাগুলি সামর্থ্য অনুসরণ করে দুর্যোগের প্রতি মানুষের সুরক্ষা ও জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা নেয়।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা

বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক সমৃদ্ধি সমন্বিত আছে, কিন্তু এই দেশটি অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশে যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাধারণভাবে দেখা যায়, সেগুলি হলো:

প্রাকৃতিক দুর্যোগদুর্যোগের ধরণপ্রতিকার
খরা ও অনাবৃষ্টিবাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, এবং খরা বা অনাবৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।খরা দেশের কৃষিব্যবস্থার উন্নতি করে এবং খাদ্য সরবরাহে সমস্যা উত্পন্ন করে।
ঝড়বাংলাদেশ সমুদ্রের কাছে অবস্থিত, এবং প্রতি বছরে একাধিক ঝড় বা সাইক্লোন দেশটি আক্রমণ করে।ঝড়গুলি বন্যা, ভূমিধস, ও জলোচ্ছ্বাস সহ বিভিন্ন প্রকারের প্রতিকার দেশের মানুষের উপর ফেলে।
বন্যাবন্যা বাংলাদেশের একটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেখানে বৃদ্ধি হওয়া নদীগুলি তাদের সীমানা অতিক্রম করে জলবায়ু বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে।বন্যার বিপর্যস্ত ক্ষেত্রে সঠিক বাঁচাবাচা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা উপায় গুলি অবলম্বন করা উচিত।

 

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে থাকে। সরকার, সংস্থাগুলি, এবং স্থানীয় সম্প্রদায় মিলিয়ে এই দুর্যোগের প্রতি মানুষের সুরক্ষা ও জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা নেয়। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেওয়া সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগ করা সুস্থ হতে পারে।

এই প্রবন্ধটি সাধারণ ভাষায় লেখা হয়েছে যাতে সবাই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহজে জানতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যার সামনে দাঁড়িয়ে, বাংলাদেশের মানুষ যোগাযোগ, সহায়তা, ও সামর্থ্য স্থাপনে সমর্থ হতে পারে এবং সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে।

আরো জানতে পারোঃ

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা

ভূমিকা: বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব ভূমি। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ দেশের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ:

যেসব ঘটনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, মানব সম্পদ ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং যার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয় তাকে দুর্যোগ বলে। আর প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট দুর্যোগকে বলা হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

বাংলাদেশের অবস্থান ও দুর্যোগ:

হিমালয় ও ভারত থেকে নেমে আসা ৫৪টি নদী, বিশাল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ শত শত নদী এদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নদী সাগরে মিশেছে। বাংলাদেশ মূলত নদীবাহিত পলিমাটির তৈরি একটি ব-দ্বীপ। এর সঙ্গে রয়েছে বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপ। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের দক্ষিণাংশ জুড়ে রয়েছে।

ফলে সাগরে ঝড় উঠলে তা প্রবল বেগে উপকূলের দিকে ছুটে আসে। সেই সঙ্গে ভয়াবহ বন্যায় ৮/১০ ফুট পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ি ভেসে যায়, মানুষ, গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং গাছপালা ভেঙে পড়ে।

সেসব এলাকা পরিণত হয়েছিল এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরীতে। যারা বেঁচে গেছেন তাদের হাহাকার আর স্বজন হারানোর বেদনায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সব হারিয়ে দরিদ্র মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ:

পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অনেক দেশেই এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের 20 থেকে 25 শতাংশ প্রাকৃতিক কারণে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ পরিবর্তনই মানব সৃষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলো।

তাদের চরম ভঙ্গুরতা এবং মেশিন নির্ভরতার কারণে বিশ্বে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এসব দেশে কারখানা ও গাড়ি থেকে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের কারণে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয় হচ্ছে। একই সঙ্গে মেরু অঞ্চল ও বিভিন্ন পাহাড়ে জমে থাকা বরফ গলে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।

সাগর ও নদীর কম্পন বাড়ছে যার ফলে নদী ও সাগর উপকূলে ভাঙনের হারও বাড়ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের অধিকাংশ নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। পলি জমার কারণে দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে বেশ কিছু নদী।

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলো বিভিন্ন স্থানে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। হিমালয় থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশের নদীতে পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি আসলেও তাদের স্রোত অনেক কমে গেছে। ব্রহ্মপুত্রের অবস্থা খুবই নাজুক।

পদ্মার বুকও ভরে গেছে বিভিন্ন স্থানে চর। গত তিন দশকে ফারাক্কা বাংলাদেশের ৮০টি নদীকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এক সময়ের খরা নদী হিসেবে পরিচিত দেশের ১৭টি নদী মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে। আরও ৮টি নদী মরে যাচ্ছে। ড্রেজিং করে এসব নদী সচল করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে নদীর উপচে পড়া পানি বর্ষাকালে ফসলের মাঠ ও বসতি প্লাবিত করে।

প্রতিবছর বন্যা এদেশের নিয়তি হয়ে উঠেছে। বন উজাড়ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আরেকটি কারণ। যেখানে প্রতিটি দেশের মোট আয়তনের 25% বনভূমি থাকা উচিত, সেখানে সরকারের মতে বাংলাদেশে মাত্র 16% বনভূমি রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ:

নদী, বন, এল নিনো এবং লা নিনা (এল নিনো এবং লা নিনা হল প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে ঘটতে থাকা ENSO চক্রের দুটি বিপরীত অবস্থা।) বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়ত দেশটিতে আঘাত করে।

উল্লেখযোগ্য হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঝড়, খরা, নদীভাঙন, ভূমিকম্প, লবণাক্ততা ইত্যাদি।

বন্যা:

বন্যা হল বন্যা বা বর্ষার বিপজ্জনক রূপ। বন্যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে। অসংখ্য মানুষ ও গৃহপালিত পশু প্রাণ হারিয়েছে, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশে গত চার দশক ধরে বন্যা একটি বার্ষিক সমস্যা। 1945 এবং 1955 সালের বন্যা এখনও মানুষের মনে তাড়া করে।

1964 সালের বন্যায় পুরো দেশ প্লাবিত হয়েছিল। এমনকি 1970 সালে দেশের কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। 1974 এবং 1988 সালের বন্যা দেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। ১৯৯৮ সালের বন্যাও ছিল ভয়াবহ। এসব বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি ফসল ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে।

দীর্ঘস্থায়ী এই মহা বন্যায় দেশের অনেক ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও মূল্যবান সম্পদ। মারাত্মক ক্ষতি হয়। 2004 সালের বন্যা রেকর্ড করা ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ছিল। এই বন্যায় দেশের মোট ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।

ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাঃ

ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই দুর্যোগ প্রতি বছর কমবেশি বাংলাদেশে আঘাত হানে। বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে 1970, 1991, 2007 সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বয়ে যাওয়া স্মরণীয় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা ছিল খুবই ভয়াবহ। এসব ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ১৯৭০ সালে প্রায় ৫ লাখ, ১৯৯১ সালে প্রায় দেড় লাখ এবং ২০০৭ সালে প্রায় এক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। লাখ লাখ নারী-পুরুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এসব ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ে।

ঝড়:

প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে বর্ষার প্রভাবে আমাদের দেশে অনেক ঝড় হয়। এই ঝড় সাধারণত বৈশাখ ও আশ্বিন মাসে হয়। ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি ও খাদ্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

বৃষ্টি বা খরা নেই:

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের কৃষি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রকৃতির উদাসীনতা। ক্ষতিগ্রস্থ এই দেশটি প্রায় প্রতি বছরই বৃষ্টির অভাব বা খরার মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়। খরার তীব্র গরমে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে ওঠে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে খরার প্রাদুর্ভাবের কারণে ব্যাপক ফসল কাটায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। খরার হিংস্র প্রভাবে অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।

নদীভাঙন:

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুক চিরে হাজার হাজার ছোট-বড় নদী বয়ে গেছে। নদীর ধর্ম হলো- এখানে ভাঙো ওখানে গড়ো। কিন্তু নদীর এই ভয়াবহ ভাঙন এক মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতিবছর এ দেশের প্রচুর সম্পদ নদীগর্ভে হারিয়ে যায়। এ দুর্যোগের প্রভাবে এদেশের বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

ভূমিকম্প:

ভূমিকম্প প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম ভয়াবহ রূপ। বিভিন্ন কারণে সময়ে সময়ে এ দেশে ছোট-বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে অন্যান্য বছরের মতো ভূমিকম্প আঘাত হানে, তবে ২০১৫ সালের ভূমিকম্প ছিল ভয়াবহ। একই বছরে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভূমিকম্পের মাত্রা বাড়লে, বাড়িঘর, রাস্তা-ঘাট ধসে পড়লে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভূতাত্ত্বিকরা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।

লবণাক্ততা:

লবণাক্ততা এ দেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সমুদ্রের লবণাক্ত পানির কারণে এদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা লবণাক্ত। এতে কোনো ফসল উৎপন্ন হয় না।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মােকাবিলা করার জন্য যে যে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

1. বিশ্বের সব দেশ, বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশগুলো যদি অন্তত 10/15 বছরের জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সম্মত হয়, তাহলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে।

2. আপনি যদি গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে চান তবে আপনাকে জ্বালানী খরচ কমাতে হবে।

3. উন্নয়ন বান্ধব কার্বন সামগ্রী তৈরি করতে হবে।

4. জলবায়ু দূষণের বিপদ সম্পর্কে শিল্প মালিক এবং জনগণকে সচেতন হতে হবে। সরকারকে এ ব্যাপারে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।

5. কারখানার বর্জ্য এবং শহরের মলমূত্র এবং আবর্জনা সরাসরি নদীতে না ফেলে শোধন করা উচিত।

৬. বায়ু দূষণ রোধে প্রতিটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৬% বলা হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে ৯% থেকে ১০%। তাই পরিবেশ বাঁচাতে অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে ব্যাপক হারে বনায়ন করতে হবে। বন উজাড় এবং অকাল গাছ।
কাটা বন্ধ করতে হবে।

৭. পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পাহাড়ি এলাকায় বৃক্ষ রোপণ করে বনাঞ্চলের উন্নয়ন করতে হবে।

8. কৃষি জমি, জলাভূমি, পাহাড় ইত্যাদি ধ্বংস করে বসতবাড়ি বা কলকারখানা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত।

9. নাব্যতা বাড়াতে দেশের সব ছোট-বড় নদীগুলো পর্যায়ক্রমে ড্রেজিং করতে হবে।

10. যে সমস্ত নদী মৃত বা মৃতপ্রায়, সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ড্রেজিং করতে হবে যাতে নাব্যতা বৃদ্ধি পায়।

11. দুর্যোগ হওয়ার আগেই মানুষকে সতর্ক করা উচিত।

12. সম্ভাব্য দুর্যোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। তাই প্রয়োজনীয় নিরাপদ স্থান বা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হবে।

13. দুর্যোগ মোকাবেলায় নিয়োজিত কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা উচিত। এসব কাজে ও সুযোগ-সুবিধা নির্মাণে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সংস্থা:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন সংস্থা, বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী দল এমনকি সর্বস্তরের মানুষ তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এই সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং কার্যালয়। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (UNHCR)। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রায় দুই শতাধিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাতিসংঘকে দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন কাজে সহায়তা করে।

উপসংহার: পাকটিক দুর্যোগ যেকোনো দেশের মানুষের জন্য অভিশাপ। এটি কেবল জনজীবনকে অকথ্য এবং অবর্ণনীয় দুর্দশার মধ্যে নিমজ্জিত করে। বাংলাদেশের মতো সমতল ভূমিতে ক্রমাগত দুর্যোগ এদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে নাড়া দিচ্ছে, থমকে যাচ্ছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। এই দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে জনগণের কোনো হাত না থাকলেও সরকার ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা মোকাবেলা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

This content is protected! By banglanewsbdhub