সারাদেশ

১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা

১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা
১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা
ধর্ষণের শিকার হয়ে ১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসাশিক্ষক ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। নবজাতকের ডিএনএর সাথে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার হয়ে ১১ বছরের এক শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এই অভিযোগপত্রে মাদ্রাসাশিক্ষক আমানুল্লাহ মাহদী ওরফে সাগর হুজুরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বড় ভাই মাইমন ওরফে মামুন মিয়াকেও এ মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মদন আমলি আদালতের সাধারণ শাখায় কোর্ট পরিদর্শকের কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মদন থানার উপপরিদর্শক আখতারুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আলোচিত এই ঘটনার তদন্ত কাজ শেষ হওয়ার পর মাদ্রাসাশিক্ষক ও তাঁর বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতের জিআর (জেনারেল রেকর্ড) শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীর এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, আমলি আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দিয়েছে পুলিশ এবং সেখান থেকে মামলাটি দ্রুত নারী ও শিশু সুরক্ষা আদালতে চলে আসবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আদালত পুলিশ পরিদর্শক রিয়াদ মাহমুদ অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর যথাযথ নিয়ম মেনে এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। তখন আদালত মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করবেন।

এই মামলার তদন্তে মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। সরকারি কৌঁসুলি নুরুল কবীর নিশ্চিত করেছেন যে, মাদ্রাসাশিক্ষক কর্তৃক শিশুটিকে ধর্ষণের পর তার গর্ভজাত নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএর মিল রয়েছে। এর মাধ্যমে নবজাতকের পিতৃত্বের পরিচয়ও চূড়ান্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আদালত এ ব্যাপারে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে তারা আশাবাদী। এই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনটি মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মামলার নথি ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহদী এলাকায় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি তার নানার বাড়িতে থাকত এবং ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থতা অনুভব করে এবং তার শরীরে পরিবর্তন দেখা যায়। এ খবর পেয়ে শিশুটির মা সিলেট থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। গত ১৮ এপ্রিল একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন যে, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

চিকিৎসকদের কাছ থেকে এই খবর জানার পর শিশুটি পরিবারের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। এরপর শিশুটির মা অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে এর বিচার চাইতে যান। সেখানে মাদ্রাসাশিক্ষকের বড় ভাই মাইমন তাকে গালমন্দ করেন এবং মারধর করে তাড়িয়ে দেন।

এই ঘটনার পর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ মে র‍্যাব ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। এরপর আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়েছিল। সেফ হোমে থাকাকালীন গত ২ জুলাই শিশুটি একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। এরপর আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা নমুনায় নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদন মামলার তদন্তে একটি নিষ্পত্তিমূলক প্রমাণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...