জাতীয়

১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাধা পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাধা পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, বাধা পেলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
১১-দলীয় ঐক্য আগামীকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে। জোটের নেতারা জানিয়েছেন, কর্মসূচিতে বাধা বা হামলা হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ছয় দফা দাবি আদায়ে আগামীকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১-দলীয় ঐক্য। এই কর্মসূচিতে যেকোনো ধরনের বাধা বা হামলা হলে কঠোর প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের নেতারা।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ ছয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে আয়োজিত এই লংমার্চ সফল করতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জোটটি।

লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই কর্মসূচি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারে যে দলই থাকুক, জনগণের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

হামিদুর রহমান আযাদ জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে জুলাই সনদ, আদেশ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও সরকার জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আগামীকাল সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।

অন্যদিকে, সরকারি দল বিএনপির নেতারা রাজপথে কর্মসূচির মাধ্যমে পরিকল্পিত অচলাবস্থা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শুধু রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সংসদে এবং সরকারের কাছে সংকট সমাধানের বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়া উচিত।

রিজভী আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনার কারণে তৈরি হয়েছে। তাই সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোরও সুনির্দিষ্ট বিকল্প পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। তিনি মন্তব্য করেন, আন্দোলন ও কর্মসূচি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও পরিকল্পিতভাবে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা দেশের জন্য ভালো নয়।

১১-দলীয় ঐক্যের নেতাদের দাবি, এটি সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন নয়; বরং জনগণের অধিকার ও বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ লংমার্চে প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সরকার জনগণের আস্থা আরও হারাবে।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে সরকার ও প্রশাসন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে এক হাজার গাড়ি নিয়ে কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হলেও পরে অংশগ্রহণকারী গাড়ির সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল ৭টায় ঢাকায় উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হবে এবং সকাল ৮টার পর গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সময় সাশ্রয়ের জন্য প্রতিটি পথসভায় ১১ দলের সব শীর্ষ নেতা বক্তব্য দেবেন না; একটি অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল আগে গিয়ে বক্তব্য দেবে।

যানজট বা যান্ত্রিক কোনো জটিলতা না হলে আগামীকাল সন্ধ্যা কিংবা মাগরিবের মধ্যে বহরটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি গাড়িতে নির্দিষ্ট স্টিকার ও নম্বর থাকবে। বহরে শীর্ষ নেতাদের গাড়ির পাশাপাশি নিরাপত্তা দল, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, আইটি এবং মিডিয়া টিমের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, পথে গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় অংশ নেওয়া যাবে না।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...