১৫ বছরেও সমাবর্তন হয়নি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা

১৫ বছরেও সমাবর্তন হয়নি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা
১৫ বছরেও সমাবর্তন হয়নি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা
প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো প্রথম সমাবর্তন হয়নি, ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠার পনেরো বছর পার হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এখনও প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। গাউন ও ক্যাপ পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। তবে হাজার হাজার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এই আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছেন।

২০১২ সালে ৪০০ আসন নিয়ে প্রথম ব্যাচের যাত্রার মধ্য দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ ও আসন সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রতি বছর ১ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষদিকে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে একটি সম্ভাব্য তারিখ ধরে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ওই কমিটিকে সমাবর্তন আয়োজনের জন্য একটি ‘কনভোকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। সমাবর্তন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী প্রান্ত দেবনাথ জানান, তাদের প্রত্যাশা খুবই স্বাভাবিক ও যুক্তিযুক্ত। তিনি বলেন, যারা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেছেন, তারা যেন একদিন শিক্ষক, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি গ্রহণ করতে পারেন।

মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জাকির হোসেন উল্লেখ করেন, সমসাময়িক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক সমাবর্তন হলেও ববিতে একটিও হয়নি, যা দুঃখজনক। তিনি বলেন, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন উদাসীন। সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার এবং এটি কেবল সনদপ্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, আত্মপরিচয়েরও অংশ। তিনি দ্রুত এই আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত ও শিক্ষক সংকটের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে তারা এখন কাজ করছেন। তিনি জানান, এই সংকটগুলো থেকে কিছুটা উত্তরণ হয়ে সমাবর্তন আয়োজনের একটি পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...