রাজনীতি১৫০ গ্যাসকূপ খনন ও ৩ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ঘোষণা মাহদী আমিনের
১৫০ গ্যাসকূপ খনন ও ৩ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ঘোষণা মাহদী আমিনের
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। তিনি আজ এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি, অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দেশে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন এবং তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য দেন। এই উদ্যোগ গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারের পরিকল্পনার অংশ।
জ্বালানি খাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, মধ্য মেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এলএনজির সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যোগ করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের মতবিনিময়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবতার নিরিখে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এরপর গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে এবং দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সামনের দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, বিশেষ করে আশপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম বলে জানান মাহদী আমিন। এই খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।
আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস রেটিংস বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করেছে। এই ঘটনাকে ‘সুখবর’ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ একটা লম্বা সময় পর নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত এসেছে। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুধু বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাই বাড়বে।
ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী-যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে কিংবা গত মাসের সঙ্গে তুলনা করলে মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমে এসেছে এবং খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির হারও কমেছে।
মাহদী আমিন আরও জানান, সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে সাত ভাগে বিভক্ত করে পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো হচ্ছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কও এই সাত ভাগের অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান সরকার প্রথাগত শাসনপদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চায় বলে দাবি করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পদযাত্রা।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্ববাজারের তীব্র চাপের মধ্যেও সরকারের সফল মুদ্রানীতিতে গত ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান। ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতিবছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধ উপায়ে ইতালিতে অভিবাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত রেখে সারের সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা মাহদী আমিন উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত এক মাসে বাস্তবায়িত ও গৃহীত বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহির মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মতামত (0)