জাতীয়আদালতকক্ষে আইনজীবীর সাথে সাহেদের বিরিয়ানি ভোজন, সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল
আদালতকক্ষে আইনজীবীর সাথে সাহেদের বিরিয়ানি ভোজন, সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল
আজ বুধবার আদালতকক্ষে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ তার আইনজীবীর সঙ্গে বিরিয়ানি খেয়েছেন। দুদকের করা এক মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ না হওয়ায় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে আজ বুধবার আদালতকক্ষে তার আইনজীবীর সঙ্গে বসে বিরিয়ানি খেতে দেখা গেছে। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে এই দৃশ্য দেখা যায়, যখন বিচারক এজলাসে ছিলেন না।
আদালতের পেশকার মো. জাহিদুল জানান, সাহেদের আইনজীবী বিচারকের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েছিলেন। খাবার শেষ হলে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সাহেদকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং সাহেদ করিমসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। আজ বুধবার এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।
তবে মামলার কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। ফলে দুদকের প্রসিকিউটর মো. নূরে আলম আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আগামী ৪ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন।
এই মামলায় সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। জামিনে থাকা অপর পাঁচ আসামি আজ আদালতে হাজিরা দেন।
জামিনে থাকা অন্য চার আসামি হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী এই মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। প্রাথমিকভাবে মামলায় আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা না হলেও তদন্তে তার নাম আসায় অভিযোগপত্রে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা লাইসেন্স নবায়ন না করা রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর করেছিলেন।
আসামিরা একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনা মূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। এরপর রিজেন্ট হাসপাতাল ওই নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করে।
এতে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের মাসিক খাবার খরচ হিসেবে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চাহিদা তোলার অভিযোগও আনা হয়।
এই চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও আসামিদের বিরুদ্ধে রয়েছে। ২০২২ সালের ১২ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু করেন।
বিচার চলাকালে আদালত মোট ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ চলতি বছর ৫ জানুয়ারি ১২ নম্বর সাক্ষী তার সাক্ষ্য দেন।
মতামত (0)