জাতীয়

সরকারি পে-স্কেল বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা

সরকারি পে-স্কেল বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা
সরকারি পে-স্কেল বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা
সরকার নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে, যেখানে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, সরকারি ব্যাংক ঋণ বৃদ্ধি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কাটছাঁটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকার সম্প্রতি নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন অনেকে। বর্তমানে দেশে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে একযোগে সব ভাতা কার্যকর হওয়া শুরু হলে বছরে বেতন-ভাতায় সরকারের ব্যয় প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। এই পরিমাণ গত অর্থবছরে আহরিত মোট রাজস্বের প্রায় অর্ধেক।

নতুন বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বেড়ে ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০,০১০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। গত ১৭ বছরে এই গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে ৪৮৮ শতাংশ। এই গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মূল বেতনের সাথে সরকারি চাকরিজীবীরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ও শিক্ষাভাতা, যাতায়াতভাতা এবং মোবাইল ফোন ভাতা পাবেন। এসব ভাতা যুক্ত হলে ২০তম গ্রেডের মোট বেতন প্রায় ৩৫ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

বিদ্যমান জ্বালানি সংকটে বেসরকারি খাতে উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার পাশাপাশি চার বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হলো।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি ঘোষণার পর দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ বাড়ানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সাথে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কাটছাঁট করতে হতে পারে।

বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, সরকার এই পে-স্কেলে বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করেছে। তবে বেতন বৃদ্ধির কারণে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, প্রতি পাঁচ বছরে পে স্কেল হওয়ার কথা থাকলেও গত ১২ বছরে তা হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, বাজেটের ওপর চাপ কমানো এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামলিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য আনতে সরকার নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার আগামী দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের পহেলা জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে দেওয়া হবে এবং ২০২৮ সাল থেকে ভাতা যোগ হওয়া শুরু হবে। প্রায় ১৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই নতুন বেতন কাঠামো থেকে উপকৃত হবেন।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান অতিরিক্ত ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে বলেছেন, "অনেক বেশি টাকা যে মানুষের হাতে পৌঁছে যাবে, এই যে একটা আশঙ্কা করছে- সরকার এত ব্যয় কোত্থেকে নির্বাহ করবে। ব্যয় বাড়বে, সে ব্যয়ের জন্য সরকারের বাজেট আছে।" অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, সরকার আগামী এক বছরে পে স্কেল যেভাবে বাস্তবায়নের কথা বলেছে, তাতে ব্যাংক থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংকটের কারণে এমনিতেই কম আসা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি আরও কাটছাঁট করতে হতে পারে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...