শিক্ষাআইইউবিতে খাদ্যবর্জ্য থেকে রান্নার গ্যাস উৎপাদন প্ল্যান্ট চালু
আইইউবিতে খাদ্যবর্জ্য থেকে রান্নার গ্যাস উৎপাদন প্ল্যান্ট চালু
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) তাদের ক্যান্টিনের খাদ্যবর্জ্য থেকে রান্নার গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদনের জন্য একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট চালু করেছে। প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১৫-২৫ কেজি খাদ্যবর্জ্য ব্যবহার করে আনুমানিক ৩-৫ ঘনমিটার রান্নার গ্যাস উৎপাদন করতে পারবে।
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) তাদের বসুন্ধরা ক্যাম্পাসে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট চালু করেছে। এই প্ল্যান্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের খাদ্যবর্জ্য ব্যবহার করে রান্নার গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করবে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে প্ল্যান্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
আইইউবির গ্রিন এনার্জি রিসার্চ সেন্টার (জিইআরসি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। বায়োডাইজেস্টার প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫ কেজি খাদ্যবর্জ্য ব্যবহার করে আনুমানিক ৩ থেকে ৫ ঘনমিটার রান্নার গ্যাস উৎপাদন করতে সক্ষম। একই প্রক্রিয়ায় জৈব সারও তৈরি হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনের খাদ্যবর্জ্যের একটি অংশ পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
জিইআরসি’র পরিচালক এবং ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. খসরু মোহাম্মদ সেলিম জানান, এই প্রকল্পের সূচনা হয় ২০২৩ সালে। সে বছর আইইউবির ট্রিপল-ই বিভাগের একদল স্নাতক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের “এফিশিয়েন্সি ফর অ্যাকসেস ডিজাইন চ্যালেঞ্জ”-এ অংশ নেয়। তারা উগান্ডার মেকেরেরে ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে সৌরবিদ্যুৎচালিত একটি স্বয়ংক্রিয় বায়োডাইজেস্টারের ধারণা তৈরি করে।
তাদের প্রকল্পটি সেই প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করে। এরপর, এই ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসে এই বায়োডাইজেস্টার প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়েছে।
প্ল্যান্টটিতে ক্যান্টিনের সবজি ও ফলের উচ্ছিষ্ট, রান্না করা খাবারের অবশিষ্টাংশসহ বিভিন্ন জৈব বর্জ্য ব্যবহার করা হয়। প্রথমে এসব বর্জ্য বিশেষভাবে তৈরি একটি শ্রেডার ও ব্লেন্ডারের মাধ্যমে পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল মিশ্রণে পরিণত করা হয়। এরপর সেই মিশ্রণ বায়োডাইজেস্টারে দেওয়া হয়।
প্ল্যান্টটির প্রাথমিক কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে উৎপাদিত বায়োগ্যাসের পরিমাণ, মিথেনের ঘনত্ব এবং উৎপাদিত জৈব সারের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিকল্প ও স্থানীয় জ্বালানির উৎসগুলো কাজে লাগানোর দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাদ্যবর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং জৈব সার উৎপাদনের এই উদ্যোগ ছোট পরিসরে হলেও বর্জ্যকে কীভাবে সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তার একটি বাস্তব উদাহরণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিবৃন্দ, উপ-উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত (0)