শিক্ষা

শিক্ষাব্যবস্থার চার স্তরকে সমান গুরুত্ব ও ভিন্ন মেধা মূল্যায়নের আহ্বান

শিক্ষাব্যবস্থার চার স্তরকে সমান গুরুত্ব ও ভিন্ন মেধা মূল্যায়নের আহ্বান
শিক্ষাব্যবস্থার চার স্তরকে সমান গুরুত্ব ও ভিন্ন মেধা মূল্যায়নের আহ্বান
একজন লেখক বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে শিক্ষার চার স্তরকে সমান গুরুত্ব, শিক্ষার্থীদের ভিন্ন মেধা মূল্যায়ন এবং দক্ষ শিক্ষক ও অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

একজন লেখক বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তার ভাবনা তুলে ধরেছেন। তিনি শিক্ষার চারটি স্তরকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিন্ন ছাঁচে না ফেলে তাদের ভিন্ন মেধা ও আগ্রহের মূল্যায়ন করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দক্ষ শিক্ষক, সচেতন অভিভাবক ও মানসম্মত অবকাঠামো ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

লেখক একজন অভিভাবক, শিক্ষক এবং বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছেন। তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের একটি মন্তব্য তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। ছেলেটি বলেছিল যে লেখাপড়া শেখা বাইসাইকেল চালানো শেখার মতো হওয়া উচিত, যেখানে শিক্ষক কেবল দিকনির্দেশনা দেবেন। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যেন হুইলচেয়ারে বসে আছে, পেছন থেকে ঠেলে দিলে এগোয়, না হলে থেমে থাকে।

গত দুই দশকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমাজে বারবার বিতর্ক, অসন্তোষ এবং উদ্বেগ দেখা গেছে। অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের মধ্যেও একধরনের অস্বস্তি কাজ করছে। অনেকে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো শিক্ষাব্যবস্থা চাইলেও শুধু ইচ্ছা করলেই তা সম্ভব নয় বলে লেখক মনে করেন। উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা রাতারাতি গড়ে ওঠেনি, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিকল্পনা, গবেষণা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা বিকশিত হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থা কেবল একটি আধুনিক সিলেবাসের নাম নয় বলে লেখক উল্লেখ করেছেন। নতুন সিলেবাস চালু করলেই শিক্ষার মান উন্নত হয়ে যায় না। একটি কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য। এর জন্য দক্ষ শিক্ষক, উপযুক্ত অবকাঠামো, দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন।

লেখকের মতে, একটি শিক্ষাব্যবস্থার ছয়টি প্রধান উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে পাঠ্যক্রম, ভৌত অবকাঠামো ও শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ এবং সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যতম। বাংলাদেশে শিক্ষার্থীর তুলনায় দক্ষ শিক্ষক, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং মানসম্মত শিক্ষা-সহায়ক উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করলে উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সাধারণত চারটি স্তরে বিভক্ত: প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়। লেখক বলেছেন, প্রতিটি স্তর একে অপরের পরিপূরক। একটি স্তর দুর্বল হলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই প্রতিটি স্তরকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সাজাতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে আনন্দময়, সহজবোধ্য এবং কৌতূহল উদ্দীপক করার কথা বলা হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বইগুলো সহজ ভাষায় লেখা এবং আকর্ষণীয় রঙিন চিত্রসমৃদ্ধ হওয়া উচিত। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের মূলত ভাষাজ্ঞান, বাক্য গঠন, দ্রুত পঠন এবং মৌলিক সামাজিক আচরণ শেখানো উচিত।

একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, পরিবেশ সচেতনতা, ট্রাফিক আইন এবং পারস্পরিক সম্মানবোধের মতো বিষয়গুলো ছোটবেলা থেকেই চর্চার মাধ্যমে শেখাতে হবে। এই পর্যায়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা বা প্রতিযোগিতার চাপ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। যারা নিয়মিত পাঠ অনুসরণ করবে এবং শৃঙ্খলা মেনে চলবে, তাদের উৎসাহ দিতে হবে।

অন্যদিকে যারা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে, তাদের শাস্তি না দিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে সহায়তা করতে হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি হবে মাধ্যমিক শিক্ষার প্রস্তুতিপর্ব। এ সময় ধীরে ধীরে পাঠ্যভিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি দায়িত্ববোধের চর্চা শুরু করা যেতে পারে।

যেমন নিজের পড়াশোনা নিজে গুছিয়ে করা, সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া এবং নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করা এই পর্যায়ের অনুশীলনের অংশ। দলগত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা, বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলা এবং নিজের আচরণের জন্য জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে তোলাও জরুরি। এই অভ্যাসগুলো একজন শিক্ষার্থীকে পরবর্তী জীবনে আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল করে তোলে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...