জাতীয়

আলিফকে দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার দাবি

আলিফকে দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার দাবি
আলিফকে দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার দাবি
হবিগঞ্জে ছাত্রদল হামলায় দৃষ্টিশক্তি হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে হাসপাতালে যান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জড়িতদের শাস্তি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দাবি জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত প্রধান ডা. শফিকুর রহমান হবিগঞ্জে ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের হামলায় এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো কিশোর আলিফ চৌধুরীকে হাসপাতালে দেখতে যান। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার দাবি জানান।

জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আলিফের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি আলিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি আলিফের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।

আলিফ চৌধুরী ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক। তিনি হোমল্যান্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে হামলার শিকার হন আলিফ।

হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর বুধবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তার বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা গুরুতর আঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় পুনরায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা এ নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না। জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি এ দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশেও এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই সরকার এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা যেই দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিচার চাইতে গিয়ে মামলা দায়ের করতেও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। বহু চেষ্টা-তদবিরের পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের দায়িত্ব আইনের শাসন নিশ্চিত করা। যদি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতেই সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কীভাবে তৈরি হবে? তিনি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তার রক্ষক।

তিনি আরও বলেন, যদি তারা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের উদ্বেগ বাড়বে। আমরা ব্যর্থতার ব্যাখ্যা শুনতে চাই না; আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। সরকারকে কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে যে এই দেশ সকল নাগরিকের এবং আইন সবার জন্য সমান।

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া মন্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি সরকারের ভেতর থেকেই বলা হয় যে দুর্নীতি বেড়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি, তাহলে জনগণের স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে কীভাবে? জনগণ অজুহাত নয়, কার্যকর ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অথচ মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আহত আলিফের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ছেলেটি কাউকে আক্রমণ করতে যায়নি। বরং সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই নির্মম হামলার শিকার হয়েছে। তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, নিন্দনীয় এবং কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কারও ওপর হামলা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন পুরো জাতি অপেক্ষা করছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...