ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি আশা ভোসলের জন্মদিন ছিল গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর। ১৯৩৩ সালের এই দিনে মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্মেছিলেন তিনি। বেঁচে থাকলে মঙ্গলবার তিনি ৯৩ বছর পূর্ণ করতেন। গত ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে মারা যান এই শিল্পী।
প্রচণ্ড ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণ নিয়ে আগের দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা ভোসলে। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংগীতের প্রায় আট দশকের এক বর্ণময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। মাত্র ১০ বছর বয়সে গান গাওয়া শুরু করেছিলেন তিনি। আট দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে তিনি হিন্দি, মারাঠি, বাংলা, তামিল, গুজরাটিসহ বিভিন্ন ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেন।
ধ্রুপদি, গজল, রোমান্টিক গান থেকে ক্যাবারে, পপ—সব ধরনের গানেই তাঁর কণ্ঠের বৈচিত্র্য ছিল অনন্য। ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণও লাভ করেন এই শিল্পী। তিনি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্যও দুবার মনোনীত হয়েছিলেন।
রাহুল দেববর্মনের মতে, আশাকে দিয়ে যেকোনো গান গাওয়ানো যেত, তবে কিছু গান লতা ছাড়া হতো না। গীতিকার ও পরিচালক গুলজার দুই বোনকে চাঁদে অবতরণকারী দুই মানুষের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। গুলজারের সেই ‘দ্বিতীয় মানুষটি’ ছিলেন আশা ভোসলে। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের বিপুল জনপ্রিয়তার ছায়ায় যাত্রা শুরু করলেও আশা নিজের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি জায়গা তৈরি করেন।
বিশেষ করে ও পি নাইয়ার ও রাহুল দেববর্মনের সুরে তাঁর গান হিন্দি চলচ্চিত্রের সংগীতে নতুন ভাষা তৈরি করে। ‘পিয়া তু আব তো আজা’র উচ্ছ্বাস যেমন তাঁর কণ্ঠে মানিয়েছিল, তেমনি ‘উমরাও জান’–এর ‘ইন আঁখো কি মাস্তি’র মতো গজলেও তিনি শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছেন। তাঁর এই বহুমুখিতাই তাঁকে কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে প্রাসঙ্গিক রেখেছিল।
আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আশা ভোসলে হাজার হাজার গান গেয়েছেন। এত বিশাল ভান্ডার থেকে নিজের সেরা ১০ গান বেছে নেওয়া তাঁর জন্যও সহজ ছিল না। তবে একবার এক সাক্ষাৎকারে শিল্পী নিজেই তাঁর পছন্দের ১০টি গানের কথা জানিয়েছিলেন। সেই তালিকায় ছিল তাঁর সংগীতজীবনের বিভিন্ন সময় ও ভিন্ন স্বাদের গান।
আশা ভোসলে নিজের সেরা ১০ গানের তালিকার শীর্ষে রেখেছিলেন ‘উমরাও জান’ সিনেমার দুটি গান। গানগুলো হলো ‘ইয়ে কায়া জাগা হাই দোস্তন’ এবং ‘ইন আনখন কি মাস্তি কে’। মোহাম্মদ জহুর খৈয়ামের সুরে তিনি স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু স্বরে গেয়েছিলেন, যা গানগুলোকে এক রহস্যময় ও আবেগঘন আবহ দিয়েছে। পরিচালক মুজাফফর আলী চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে তাঁকে উপন্যাস পড়তে দিয়েছিলেন, যা গানে অভিনব গভীরতা নিয়ে আসে।



মতামত (0)