পরিবেশ

বাংলাদেশে পাচার হওয়া দুই চিতাবাঘ ফেরত নিতে নারাজ জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশে পাচার হওয়া দুই চিতাবাঘ ফেরত নিতে নারাজ জিম্বাবুয়ে
বাংলাদেশে পাচার হওয়া দুই চিতাবাঘ ফেরত নিতে নারাজ জিম্বাবুয়ে
জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে উদ্ধার হওয়া দুটি চিতাবাঘ ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জিম্বাবুয়ের সরকার। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রাণী দুটি গাজীপুর সাফারি পার্কে বন্দী রয়েছে।

আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে উদ্ধার হওয়া দুটি চিতাবাঘ ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জিম্বাবুয়ের সরকার। দুই বছর ধরে বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর চিতা দুটি ফেরত নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করলেও জিম্বাবুয়ে সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। জিম্বাবুয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী বন্য প্রাণী সংগঠন চিতাবাঘ দুটি পুনর্বাসন করতে আগ্রহী হলেও তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

২০১৮ সালের ১৫ জুন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে খাঁচাবন্দী অবস্থায় এ দুটি চিতাশাবক উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে চিতাবাঘ দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে। বন বিভাগ আটক পাচারকারী ও বন্য প্রাণী পাচার প্রতিরোধে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যে নিশ্চিত হয় যে শাবক দুটি জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছে।

বন্য প্রাণীর পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা জিম্বাবুয়ের সংগঠন ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’ এ দুটি চিতাবাঘ পুনর্বাসনের আগ্রহ প্রকাশ করে। বন বিভাগ সে বিষয়টি উল্লেখ করে ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট অথরিটিকে চিঠি দেয়। বন বিভাগের প্রধান সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জিম্বাবুয়ের মহাপরিচালকের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে চিতাবাঘ দুটি ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান।

মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, ২০১৮ সালের জুনে চিতাশাবক দুটি উদ্ধারের পর আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও অন্যান্য উপায়ে তাদের জিম্বাবুয়ে থেকে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। জিম্বাবুয়ের একটি সংস্থা চিতা দুটি ফিরিয়ে নিতে চাইলে তারা জিম্বাবুয়ের সরকারকে চিঠি দেন। ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট ফিরতি চিঠিতে জিম্বাবুয়ে সরকারের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট এ দুটি চিতাবাঘ ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

চিঠিপত্রের ধারাবাহিকতায়, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ মেইলটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই বছরের ১৭ জুন বন অধিদপ্তর বিষয়টি অগ্রগতি জানতে আবার মেইল করে। ১৯ জুন ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ চিতাবাঘ দুটির ভেটেরিনারি সনদ চায় এবং ১৬ জুলাই বন অধিদপ্তর সনদ পাঠায়। এরপর ১২ আগস্ট বন্য প্রাণী দুটি ফেরত নেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি জানতে আবার মেইল করা হলে ১৪ আগস্ট তারা ফেরত নেবে না বলে বন অধিদপ্তরকে জানিয়ে দেয়।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর জিম্বাবুয়ের ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’ সংস্থা জানায়, তারা জিম্বাবুয়ে সরকারের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বেশ কয়েকবার এ দুটি চিতা ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করার বিষয়ে যোগাযোগ করেছে। দেড় বছর ধরে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে জানিয়ে সংস্থাটি চিতাবাঘ দুটির জন্য প্রয়োজনীয় খাঁচা বানাতে তহবিল সংগ্রহও করেছে। তারা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

উদ্ধারের পর ২০১৮ সালের জুনে তিন সপ্তাহের জন্য চিতাশাবক দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে আনা হয়েছিল। ৯ বছর ধরে সে ছোট খাঁচায় বন্দী হয়ে আছে এ দুটি বন্য প্রাণী। গাজীপুর সাফারি পার্কের দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, প্রতিটি সাফারি পার্কের একটি নকশা থাকে এবং অর্থসংকটে চিতার মতো বন্য প্রাণীর পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে খাঁচা তৈরি করা যায়নি।

মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, এ অর্থবছরে দুটি চিতার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে একটি বড় খাঁচা তৈরি করা হবে। কয়েক মাস পরে কাজ শুরু হবে। এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরীও একই তথ্য দিয়ে জানান, এ অর্থবছরে এ দুটি বন্য প্রাণীর জন্য খাঁচা বানাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...