রাজনীতি

বাতিলের সঙ্গে আপস নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

বাতিলের সঙ্গে আপস নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
বাতিলের সঙ্গে আপস নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করা হবে না। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ থেকে সব অন্যায়, অনাচার ও বৈষম্য দূর করা হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করা হবে না। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ থেকে সব অন্যায়, অনাচার ও বৈষম্য দূর করা হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ শ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে তৌফিক চেয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি উপলক্ষে মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক দাওয়াতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করা হবে না। তাঁর জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই মহান আল্লাহর হাতে। আল্লাহর দেওয়া জীবন তার কাছে আমানত, সেই আমানত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত। চলার পথে বাধা, সমালোচনা, গালিগালাজ আসবে, এমনকি জীবন দেওয়ার বা বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কওমি থেকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী মুফতি আবুল কালাম আজাদের বক্তব্যের সূত্র ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কওমিকে আলাদা মনে করি না।’ তিনি জানান, তাদের অধিকারের পক্ষে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে সংসদে কথা বলা হবে। তিনি কওমি আলেমদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট করে দেখেন না এবং তাদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের কেউ অপমান করলেও আমরা কাউকে অপমান করে কথা বলি না, বলব না।’ তিনি আত্মতৃপ্তি পান যখন তাকে অপমান করা হয়। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়েও অবুঝ মানুষ নানা রকম কথা বলেছে, কিন্তু আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন, দুনিয়ার কেউ তাকে অসম্মানিত করতে পারে না।

জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, ‘তলোয়ারের দাগ একসময় মুছে গেলেও মুখের ভাষার আঘাতের ক্ষত মুছে যায় না।’ তবে তিনি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে যারা তাকে কষ্ট দেন, তাদের ক্ষমা করে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে ক্ষমা করি, ক্ষমা পাওয়ার আশায়।’

এ সমাবেশে সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ৬৫০ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। জামায়াত আমির তাদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন।

যোগদানকারীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছে, আল্লাহ সবাইকে দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে শামিল রেখে এ দেশের মানুষের খেদমত করার তাওফিক দান করুন এবং জান্নাতে আমাদের একত্রিত করুন।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ দেশে কোরআনের বিধান কায়েম হবে। তবে প্রশ্ন রাখেন, সেই কাজে অংশগ্রহণকারীরা থাকবেন কিনা।

তিনি বলেন, দুনিয়ায় আল্লাহর দ্বীন কায়েম হয়েছে যুবকদের ঘাড়ে ভর করে। এ দেশেও যুবসমাজের নেতৃত্বে একদিন আল্লাহর দ্বীন কায়েম হবে। যৌবনকে মহান আল্লাহর বিশাল নিয়ামত উল্লেখ করে তিনি বলেন, মনের মধ্যে যৌবনের আকাঙ্ক্ষা ও উদ্যম ধারণ করাই প্রকৃত যৌবন।

নতুন যারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা বড় প্রত্যাশা ও বুকভরা আশা নিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ অর্জন, মানবতা, দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু করা এবং নিজেদের আখেরাত সুন্দর করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছেন। তিনি জানান, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করে সমাজকে অশান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে না এবং এটি ইসলামের শিক্ষা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি’র সভাপতিত্বে এ দাওয়াতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন যৌথভাবে সমাবেশ পরিচালনা করেন।

সমাবেশে সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোট সরকারে জামায়াতের দুজন নেতা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদের বিরুদ্ধে ২ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি। এই বিষয়টি তাকে অবাক করেছে এবং তিনি মনে করেন, এখানেই দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি হয়।

বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার বলেন, ৩৬ বছর বিএনপি করে তিনি ‘মানুষ হতে পারেননি’। কারাগারে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পাশে থেকে কোরআন শিখেছেন এবং সঠিক পথের দিশা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে থাকাকালীন নেতারা হাতে মদ আর তাস দিয়েছেন, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতারা হাতে কোরআন তুলে দিয়েছেন। তাই কোরআনের আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করছেন।

কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী বলেন, কওমি মাদ্রাসায় পড়ার সময় জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছিল। কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের পত্র-পত্রিকা বা একাডেমিক বই ছাড়া অন্য বই পড়তে দেওয়া হতো না। তবে তিনি যখন জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন, তখন দেখতে পান জামায়াতে ইসলামী সঠিক আদর্শের রাজনীতি করছে। তাই তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. এ এস এম খালেকুজ্জামান এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান। ড. খালেকুজ্জামান বলেন, সমাজ পরিচালনা ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন। সমাজের ভালো মানুষগুলো রাজনীতিতে না এলে সেই জায়গা খারাপ লোকজন দখল করবে।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামভিত্তিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র ও সোনালি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে দুনিয়ায় শান্তি এবং আখেরাতে মুক্তি লাভের লক্ষ্যেই মানুষকে আল্লাহর দিকে, সত্য ও সুন্দরের দিকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগঠনের সামগ্রিক কার্যক্রমে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...