বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে ৯ দফা লিখিত দাবি জানিয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত এসব দাবি উত্থাপন করেছে।
জামায়াতের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে ৩০ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন, যারা অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে ও প্রার্থী হতে পেরেছেন। তিনি সুপারিশ বাতিলের দাবি জানান, যেখানে তাঁদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পারবেন না, এটি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দলটি আরও দাবি জানিয়েছে যে, যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ, সেই দলের কোনো নেতা বা পদধারী ব্যক্তি যেন স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন। জামায়াতের মতে, নিষিদ্ধ দলের পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়নি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও জামায়াত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে যে তিনি অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচন বিষয়ক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে বলে জামায়াত দাবি করে এবং তার দ্রুত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানায়।
জামায়াত বিভিন্ন জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এসব নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই যারা এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও তারা যেন প্রার্থী হতে না পারেন, সে দাবিও জানানো হয়েছে।



মতামত (0)