রাজনীতি

জামায়াতের ৯ দফা দাবি: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে সুযোগ ও ইসির নিরপেক্ষতা চায় দল

জামায়াতের ৯ দফা দাবি: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে সুযোগ ও ইসির নিরপেক্ষতা চায় দল
জামায়াতের ৯ দফা দাবি: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে সুযোগ ও ইসির নিরপেক্ষতা চায় দল
জামায়াতে ইসলামী আজ নির্বাচন কমিশনের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং ইসির অতিরিক্ত সচিবের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রধান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে ৯ দফা লিখিত দাবি জানিয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত এসব দাবি উত্থাপন করেছে।

জামায়াতের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে ৩০ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন, যারা অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে ও প্রার্থী হতে পেরেছেন। তিনি সুপারিশ বাতিলের দাবি জানান, যেখানে তাঁদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পারবেন না, এটি সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দলটি আরও দাবি জানিয়েছে যে, যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ, সেই দলের কোনো নেতা বা পদধারী ব্যক্তি যেন স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন। জামায়াতের মতে, নিষিদ্ধ দলের পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়নি।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও জামায়াত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে যে তিনি অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচন বিষয়ক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে বলে জামায়াত দাবি করে এবং তার দ্রুত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানায়।

জামায়াত বিভিন্ন জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এসব নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই যারা এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও তারা যেন প্রার্থী হতে না পারেন, সে দাবিও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া জামায়াত দাবি করেছে যে, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিরা যেন স্থানীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন। এ বিষয়ে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। গত ২৯ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকেও দলটি একই দাবি জানিয়েছিল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং তারা এখনো আশাবাদী। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের কথাবার্তা ও আচরণ থেকে তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে কমিশনের ওপর দলীয় সরকারের চাপ রয়েছে। জামায়াত চায় নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করুক এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করুক।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হয় না, তাই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে দলের স্থানীয় শাখাগুলোকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এবং সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নের কাজ করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ১১-দলীয় ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনের জন্য ছিল এবং স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিটি দল নিজ নিজভাবে প্রার্থী দিতে পারবে।

জামায়াত প্রতিনিধিদলে মিয়া গোলাম পরওয়ার ছাড়াও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ, আবদুর রব ও মোবারক হোসাইন, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান (মোমেন) এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...