কুষ্টিয়া জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরা বিচারক প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
কুষ্টিয়া জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে আজ সোমবার জেলার সাংবাদিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। সাংবাদিকরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন তারা।
আজ সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ও জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশে পুলিশ বাধা দিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিকরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার আল মামুন সাগর বলেন, সাংবাদিক উল্লাস হামলার পর এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অথচ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর জামিন দেওয়া হয়েছে। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের মতো মনে করে যদি কেউ ভাবেন যা খুশি তাই করবেন, সেটা ঠিক হবে না। এই ঘটনাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বিচারকের জামিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহার করতে হবে বলে দাবি করেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আদালত প্রাঙ্গণের কর্মসূচি আরও বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে মামলার প্রতিটি ধাপ আইন অনুযায়ী পরিচালনার দাবি জানান তারা। তাদের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর জামিন দেওয়া হয়েছে, যা সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, আমরা কথা বললেই আদালত অবমাননার কথা বলা হয়। কিন্তু কুষ্টিয়ার আদালতে কী হচ্ছে, সেটি নিয়েও তো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকতে হবে।
গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিচারককে দ্রুত কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে সাংবাদিকদের নিয়ে শহরে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন। বিক্ষোভ সমাবেশে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহসভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু এবং ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবু বকরসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, বেলা পৌনে ১টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কুন্ডুপাড়া কালীবাড়ী মোড় এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন একজন সাংবাদিক। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী পৌরসভার গণমোড় থেকে নবগ্রহ মন্দির পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউএনওর বক্তব্যও একই ধরনের তথ্য নিশ্চিত করে।
এ সময় সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই একদল ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা কাঠের বাটাম, বাঁশের লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উল্লাসের ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁর মাথা ও চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়।
মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ক্যামেরা ভাঙচুর এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে সহকর্মী সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা আহত উল্লাসকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মতামত (0)