জাতীয়বিদ্যালয়ে ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ: তদন্ত কমিটি গঠন
বিদ্যালয়ে ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ: তদন্ত কমিটি গঠন
নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহে ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষার্থী এক সপ্তাহের মধ্যে তিন দফায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং কারণ অনুসন্ধানের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই তিন সদস্যের কমিটি শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার মূল কারণ নির্ণয় করবে।
জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন গতকাল বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানসী রানি সরকারকে এই কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিযুক্ত হয়েছেন।
তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুততম সময়ে এই সমস্যার সমাধান চায়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার পেছনে 'ম্যাস হিস্টিরিয়া' কাজ করতে পারে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে যে এটিই চূড়ান্ত কারণ নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি কাজ করবে।
গত সোমবার নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া এক শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও তার অসুস্থতার নির্দিষ্ট অন্য কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। এটি তদন্তের কাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সর্বশেষ গতকাল বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে অসুস্থতা অনুভব করে। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গতকাল বিকেলের দিকে আরও তিনজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই নিয়ে গতকাল একদিনেই ১৩ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। এই ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে তখন থেকেই পর্যবেক্ষণ চলছিল।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর আরও ২১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এই নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বড় সংখ্যক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। প্রথম ঘটনার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
গতকাল বুধবারের ১৩ জনসহ এক সপ্তাহে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক অসুস্থতা বিদ্যালয় এবং এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি সমাধানের পথ খুঁজছে।
শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার কারণ নিয়ে কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর কৃষি বিভাগের একটি তদন্ত পরিচালিত হয়েছিল। সেই তদন্তে বলা হয়, বিদ্যালয়ের পাশের জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের তীব্র গন্ধ শিক্ষার্থীদের অসুস্থ করে থাকতে পারে।
একই বিদ্যালয়ে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। এখন তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কী উঠে আসে, সেদিকেই সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
মতামত (0)